Saturday, October 17th, 2015

সুন্দরবন রক্ষার কর্মসূচিতে উপর্যুপরি হামলা, সমাবেশ মিছিল পন্ড করার জবাব দিতে হবে জাতীয় জাগরণ দিয়ে

সুন্দরবন রক্ষায় গণতান্ত্রিক বামমোর্চার রোডমার্চে একটানা দুইদিন মানিকগঞ্জ, মাগুড়া, ঝিনাইদহ. যশোরে উপর্যুপরি পুলিশী হামলা এবং পুরো অংশগ্রহণকারীদের অবরোধ করে রাখার তীব্রনিন্দা জানিয়েছেন তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্ল¬াহ এবং সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, জাতীয় কমিটির কয়েকটি শরিক সংগঠন নিয়ে গঠিত গণতান্ত্রিক বামমোর্চা ‘সুন্দরবন রক্ষায় রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিলের দাবিতে’ গতকাল ১৬ অক্টোবর সকালে জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে রোর্ডমার্চ এর যাত্রা শুরু করে। রোডমার্চ মানিকগঞ্জে পৌঁছালে পুলিশী হামলায় গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, সাইফুল হক সহ ১৫ জন নেতা-কর্মী আহত হন। আজ ১৭ অক্টোবর রোডমার্চের ৫ শতাধিক নেতাকর্মী মাগুড়ায় পৌঁছালে আবারও তাদের ওপর পুলিশ হামলা করে। এবং এরপর থেকে পুলিশ কার্যত মোর্চার সকল অংশগ্রহণকারীকে বাসে আটকে রেখে তাদের কর্তৃত্বে চলতে বাধ্য করে। এরপর ঝিনাইদহে রোডমার্চের নির্ধারিত কর্মসূচি পালন করতে না দিয়ে যশোরে নিয়ে যায়। পরে যশোরেও বাস থেকে নামতে বাধা দিয়ে পুলিশ বহর তাদেরকে খুলনার দিকে যেতে বাধ্য করে।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং পারিবেশবাদী সংগঠনসহ বিভিন্ন মহল থেকে যখন রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিলের দাবি জানানো হচ্ছে তখন সুন্দরবন রক্ষার রোডমার্চে এরকম উপর্যুপরি পুলিশী হামলা, মিছিল ও সমাবেশে একের পর এক বাধাদান এবং সকল শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ভন্ডুল করে সরকার প্রমাণ করছে যে, বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন ধ্বংসে সরকার কতটা দায়বদ্ধ এবং জনমতের ভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত। আমরা পরিষ্কার জানতে চাই যে, পুলিশি হামলা, নির্যাতন করে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করা যায় না। আমরা এই স্বৈরাচারী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং সুন্দরবন রক্ষার আন্দোলনকে জোরদার করার জন্য সকল গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাই। সর্বস্তরে এই আন্দোলন ছড়িয়ে জাতীয় জাগরণ তৈরির মাধ্যমেই সুন্দরবনকে লুটেরাদের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে।