Saturday, February 6th, 2016

১০-১৫ মার্চ সুন্দরবনমুখী জনযাত্রা

৬ ফেব্রুয়ারি, শনিবার সকাল ১১টায় ঢাকার রিপোটার্স ইউনিটি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে সুন্দরবন রক্ষায়, সুন্দরবনবিনাশী রামপাল ও ওরিয়ন বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ সকল অপতৎপরতা বন্ধ এবং জাতীয় কমিটির ৭ দফা বাস্তবায়নে আগামী ১০-১৫ মার্চ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সুন্দরবনমুখী জনযাত্রার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মহাম্মদ। রুহিন হোসেন প্রিন্স, বজলুর রশীদ ফিরোজ, জোনায়েদ সাকী, প্রকৌশলী কল্লোল মোস্তফা, আজিজুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম ফজলু, বহ্নী শিখা জামালী, ফখরুদ্দিন কবির আতিক, মহিন উদ্দিন চৌধুরী লিটনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

press-conf-6feb2016-1

সংবাদ সম্মেলনে সুন্দরবনমুখী জনযাত্রা সফল করতে ১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা-নারায়ণগঞ্জে এবং ২৭ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে প্রতিবাদ ও দাবি সমাবেশ এবং ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সাথে মতবিনিময় কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় “বিদ্যুৎ উৎপাদনের অনেক বিকল্প আছে, সুন্দরবনের কোন বিকল্প নেই। পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, প্রাণ-বৈচিত্রের অসাধারণ আধার এবং পাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের জন্য সবচাইতে শক্তিশালী প্রাকৃতিক রক্ষা বর্ম সুন্দরবন আছে বলে পতিটি পাকৃতিক দুর্যোগে বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বাঁচে। সুন্দরবন বিনষ্ট হওয়া মানে বহুলক্ষ মানুষের জীবিকা হারানো, উপকূলীয় অঞ্চলের কয়েক কোটি মানুষকে মৃত্যু ও ধ্বংসের হুমকির মুখে ঠেলে দেয়া। একদিকে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র করে এই অনবায়নযোগ্য বিশাল আশ্রয় সুন্দরবন হত্যার আয়োজন চলছে, অন্যদিকে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র সামনে রেখে দেশের ভূমিদস্যুদের নানারকম পকল্প তৈরি করা হচ্ছে। রামপাল প্রকল্প সামনে রেখে ওরিয়নের কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, শীপইয়ার্ড, সাইলো, সিমেন্ট কারখানাসহ নানা বাণিজ্যিক ও দখলদারী অপতৎপরতা বাড়ছে।”

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয় “লংমার্চসহ ধারাবাহিক আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে রামপাল ও ওরিয়ন বিদ্যুৎ পকল্প বাতিল এক জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে। সুন্দরবনের গুরুত্ব এদেশের মানুষ জানে, জানে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সংশ্লিষ্ট সকল আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান। তাই সুন্দরবনের পাশে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের বিপদ নিশ্চিত জেনে রামসার ও ইউনেস্কোর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থা তাদের উদ্বেগ পকাশ করে সরকারকে একাধিক বার চিঠি দিয়েছে। এছাড়া সুন্দরবনের জন্য বিপদজনক রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের সাথে সংশ্লিষ্টতার কারণে ভারতীয় কোম্পানি এনটিপিসি থেকে নরওয়ে সরকারের গ্লোবাল পেনশন ফান্ড বিনিয়োগ পত্যাহার করে নিয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংক এই প্রকল্পে অর্থসংস্থানে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এমনকি প্রথমদিকে খোদ সরকারের বিভিন্ন বিভাগও লিখিত ভাবে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছিলো! কিন্তু কতিপয় দেশি বিদেশি গোষ্ঠীর মুনাফা উন্মাদনা সরকারকে বধির করেছে, সুন্দরবন ধ্বংসের আয়োজন আরও জোরদার হয়েছে। কোনোভাবেই আমরা বাংলাদেশ, ভারত ও সারাবিশ্বের এই প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস হতে দিতে পারি না।”

সংবাদ সম্মেলনে, জাতীয় কমিটির ৭ দফা দাবি অনুযায়ী সর্বজনের সম্পদে শতভাগ মালিকানা ও শতভাগ সম্পদ দেশের কাজে ব্যবহার, দুর্নীতি করবার দায়মুক্তি আইন বাতিল করে খনিজসম্পদ রফতানি নিষিদ্ধকরণ আইন প্রণয়ন, পিএসসি পক্রিয়া বাতিল করে স্থলভাগে ও সমুদ্রে নতুন নতুন গ্যাস ক্ষেত্র অনুসন্ধানে জাতীয় সংস্থাকে পয়োজনীয় সুযোগ, ক্ষমতা ও বরাদ্দ পদান, রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট চালু, মেরামত ও নবায়ন, এশিয়া এনার্জিকে (জিসিএম) দেশ থেকে বহিষ্কার ও উন্মুক্ত খনন পদ্ধতি নিষিদ্ধ সহ ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন, জাতীয় সম্পদের উপর জাতীয় কর্তৃত্ব নিশ্চিত করবার জন্য জাতীয় সক্ষমতার বিকাশ, পরিবেশ ও জনস্বার্থ নিশ্চিত করার মাধ্যমে নবায়নযোগ্য ও অনবায়নযোগ্য জ্বালানী সম্পদের সর্বোত্তম মিশ্রণ ঘটিয়ে একটি জ্বালানী নীতি পণয়ন করে তার জন্য পয়োজনীর পাতিষ্ঠানিক কাঠামো নির্মাণ এবং জনশক্তি তৈরির কাজ শুরু, জনধ্বংসী পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদে নবায়নযোগ্য জ্বালানীর ওপর গুরুত্ব প্রদানের দাবি জানানো হয়।