Saturday, February 6th, 2016

সুন্দরবনবিনাশী রামপাল ও ওরিয়ন বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ সকল অপতৎপরতা বন্ধ এবং জাতীয় কমিটির ৭ দফা বাস্তবায়নে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,
শুভেচ্ছা নেবেন।
আপনাদের নিশ্চয়ই স্মরণ আছে যে, সুন্দরবনধ্বংসী রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল ও বিদ্যুৎ সংকটের সমাধানে জাতীয় কমিটির ৭ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে আমরা গত ২৪-২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ঢাকা থেকে সুন্দরবন ৪০০ কিমি লংমার্চ সফলভাবে সম্পন্ন করেছিলাম। লংমার্চ ছাড়াও এরপর বহুবার আপনাদের মাধ্যমে এবং বিভিন্ন প্রকাশনার মধ্য দিয়ে, এমনকি সরকারের কাছে লিখিতভাবে ও আনুষ্ঠানিক বৈঠকে, আমরা কেনো এই কেন্দ্র বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থবিরোধী, সুন্দরবন ও মানববিধ্বংসী, তা বৈজ্ঞানিক গবেষণালব্ধ তথ্য যুক্তিসহ তুলে ধরেছি। আমরা বলেছি, ভারত-বাংলাদেশ যৌথ প্রকল্পটি অস্বচ্ছ ও অসম। আমরা বিস্তারিত তথ্য ও যুক্তি দিয়ে দেখিয়েছি যে, প্রাকৃতিক রক্ষাবর্ম হিসেবে বাংলাদেশের মানুষ ও প্রকৃতিকে যে সুন্দরবন রক্ষা করে, অসাধারণ জীববৈচিত্রের আধার হিসেবে যা প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখে সেই সুন্দরবনকে ধ্বংস করবে এই প্রকল্প। ভারতীয় কোম্পানি (এনটিপিসি) নিজদেশের আইন ভঙ্গ করে এই প্রকল্পে যুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশে সুন্দরবনের ১৪ কিমি এর মধ্যে, বাফারজোন বিবেচনায় ৪ কিমি-এর মধ্যে, এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এনটিপিসি এ ধরনের কোনো প্রকল্প ভারতে করতে সক্ষম হতো না, কেননা ভারতের ‘ইআইএ গাইডলাইন ২০১০’ অনুসারে বনাঞ্চলের ২৫ কিমি-র মধ্যে কোন বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা যায় না। ভারতে পরিবেশ আইন অনুসারে এনটিপিসির একাধিক প্রকল্প বাতিল করতে হয়েছে।

আমরা ভারতের আইন ভঙ্গ করে ভারতীয় কোম্পানির সুন্দরবনধ্বংসী তৎপরতার প্রতি বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীরও দৃষ্টি আকর্ষণ করে তা অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছিলাম। আশা করেছি দুদেশের সরকার বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন, কয়েক কোটি মানুষের প্রাকৃতিক নিরাপত্তা বাঁধ এই সুন্দরবনের গুরুত্ব উপলব্ধি করবেন এবং এই বিধ্বংসী তৎপরতা থেকে সরে আসবেন। কিন্তু তা হয়নি। দেশের ভেতরে প্রবল জনমত,দেশি-বিদেশী বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ, ব্যক্তি ও সংগঠনের আপত্তি সত্ত্বেও এই কেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছে না সরকার। এইমাসেই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ভারতীয় এক কোম্পানির সাথে চুক্তির আয়োজন চলছে।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,
আমরা বারবার বলেছি, বিদ্যুৎ উৎপাদনের অনেক বিকল্প আছে, সুন্দরবনের কোন বিকল্প নেই। পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, প্রাণ-বৈচিত্রের অসাধারন আধার এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের জন্য সবচাইতে শক্তিশালী প্রাকৃতিক রক্ষা বর্ম সুন্দরবন আছে বলে প্রতিটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বাঁচে। সুন্দরবন বিনষ্ট হওয়া মানে বহুলক্ষ মানুষের জীবিকা হারানো, উপক’লীয় অঞ্চলের কয়েক কোটি মানুষকে মৃত্যু ও ধ্বংসের হুমকির মুখে ঠেলে দেয়া। একদিকে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র করে এই অনবায়নযোগ্য বিশাল আশ্রয় সুন্দরবন হত্যার আয়োজন চলছে, অন্যদিকে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র সামনে রেখে দেশের ভূমিদস্যুদের নানারকম প্রকল্প তৈরি করা হচ্ছে। রামপাল প্রকল্প সামনে রেখে ওরিয়নের কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, শীপইয়ার্ড, সাইলো, সিমেন্ট কারখানাসহ নানা বাণিজ্যিক ও দখলদারী অপতৎপরতা বাড়ছে।

আশার কথা এই যে, লংমার্চ সহ ধারাবাহিক আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে রামপাল ও ওরিয়ন বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল এক জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে। সুন্দরবনের গুরুত্ব এদেশের মানুষ জানে, জানে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সংশ্লিষ্ট সকল আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান। তাই সুন্দরবনের পাশে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের বিপদ নিশ্চিত জেনে রামসার ও ইউনেস্কোর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থা তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকারকে একাধিক বার চিঠি দিয়েছে। এছাড়া সুন্দরবনের জন্য বিপদজনক রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের সাথে সংশ্লিষ্টতার কারণে ভারতীয় কোম্পানি এনটিপিসি থেকে নরওয়ে সরকারের গ্লোবাল পেনশন ফান্ড বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংক এই প্রকল্পে অর্থসংস্থানে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এমনকি প্রথমদিকে খোদ সরকারের বিভিন্ন বিভাগও লিখিত ভাবে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছিলো! কিন্তু কতিপয় দেশি বিদেশি গোষ্ঠীর মুনাফা উন্মাদনা সরকারকে বধির করেছে, সুন্দরবন ধ্বংসের আয়োজন আরও জোরদার হয়েছে। কোনোভাবেই আমরা বাংলাদেশ, ভারত ও সারাবিশ্বের এই প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস হতে দিতে পারি না। আমরা তাই বাংলাদেশে এবং বাংলাদেশ-ভারতের জনগণের যৌথ উদ্যোগে প্রতিরোধ আন্দোলন জোরদার করবার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,
বিদ্যূৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনের নামে, দেশী বিদেশী লুটেরা গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষা করতে গিয়ে, সরকার বারবার দেশের জন্য সর্বনাশা পথ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে সুন্দরবন-কৃষিজমি-শহর ধবংসী রামপাল ও ওরিয়ন বিদ্যুৎ কেন্দ ছাড়াও আছে ফুলবাড়ি-বড়পুকুরিয়ার উন্মুক্ত খনির চক্রান্ত অব্যাহত রাখা, বঙ্গোপসাগরের গ্যাস ব্লক একতরফা সুবিধা দিয়ে বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা, কুইক রেন্টালের নামে ১৪ থেকে ১৭ টাকা কিংবা তারও বেশি দরে বিদ্যুৎ ক্রয়, নিরাপত্তা পারমাণবিক বর্জ্যসহ ভয়াবহ ঝুঁকির নিষ্পত্তি না করে রূপপুরে বিপুল ঋণ ও বিদেশি কোম্পানি নির্ভর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্যোগ ইত্যাদি।

যেখানে বঙ্গোপসাগরের গ্যাসসম্পদই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রধান অবলম্বন সেখানে এই গ্যাসসম্পদ নিয়েই এখন নানামুখি জনবিরোধী তৎপরতা চলছে। আমরা জেনে স্থম্ভিত হয়েছি যে, সরকার বিনা টেন্ডারে ‘পারস্পরিক বোঝাপড়া’র ভিত্তিতে সমুদ্রের তেল-গ্যাস ব্লক ইজারা দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই কাজে ২০১০ সালে প্রণীত দায়মুক্তি আইন ব্যবহার করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে জ্বালানী মন্ত্রণালয়ের কোনো কাজের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হওয়া যায় না। এই আইন দিয়ে ইতিমধ্যে অনেক অনিয়ম করা হয়েছে, এবারে অবিশ্বাস্য অনিয়ম ও দুর্নীতির দিকে যাচ্ছে সরকার। যুক্তি দেয়া হচ্ছে এতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব। ‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গেলে সময় লাগে’, ‘সুতরাং সবরকম নিয়মকানুন বাতিল করতে হবে’ এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য যুক্তি হতে পারে না। বস্তুত জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত না রেখে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করবার চেষ্টার কারণেই সমুদ্র সম্পদ নিয়ে অনুসন্ধানে এই বিলম্ব হচ্ছে। আমরা কনোকো ফিলিপস-এর সাথে চুক্তির বিরোধিতা করেছিলাম। সেসময় সরকার এই তাড়াহুড়ার অজুহাত দিয়েই জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি করেছিলো। কনোকো ফিলিপস তাদের শেয়ারের দাম বাড়িয়ে লাভবান হয়েছে, কোনো কাজের কাজ করেনি। বাংলাদেশের ক্ষতি হয়েছে।

আমরা বরাবর দাবি জানিয়েছি, যেহেতু সমুদ্রের গ্যাসসম্পদের সম্ভাব্য বিশাল মজুদ দেশের ভবিষ্যতের বড় অবলম্বন সেহেতু জাতীয় সংস্থার মালিকানায়, প্রয়োজনে বিদেশি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দিয়ে কোনো নির্দিষ্ট কাজে দক্ষতার ঘাটতি থাকলে সাবকন্ট্রাক্টর নিয়োগের মাধ্যমে, তেল গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের কাজ করা হোক। এভাবে জাতীয় সক্ষমতা বাড়ানোর কর্মসূচি নিলে দেশের শতভাগ সম্পদের ব্যবহারের মাধ্যমে উন্নয়নের শক্তিশালী ভিত নির্মাণ সম্ভব হতো, উল্লিখিত বিভিন্ন মানবধ্বংসী প্রকল্প নিতে হতো না। সরকার সেপথে যাবার কোন চেষ্টা না করে নানারকম ভুল নীতি ও দুর্নীতির পথে গেছে। পিএসসি মডেল বারবার সংশোধন করে এখন যেভাবে দাঁড় করানো হয়েছে তা বড় আকারের দুর্নীতি ছাড়া আর কোনোভাবেই ব্যাখ্যা করা যায় না। এই মডেলে চুক্তি হওয়া মানে বাংলাদেশের ঘাড়ে আর্থিক বোঝা তৈরি করে দেশের বিশাল সম্পদ থেকে জনগণকে বঞ্চিত করা। এতে যে দামে গ্যাস কেনা হবে তা আমদানি করা গ্যাসের দামের সমান হবে। উপরন্তু পাইপলাইনের ব্যয়, কোম্পানির কর সবই বহন করবে বাংলাদেশ। এছাড়া প্রতিবছর গ্যাসের দাম শতকরা ৫ ভাগ হারে বৃদ্ধির ব্যবস্থা, ব্যয় পরিশোধ পর্বে বিদেশি কোম্পানির অংশীদারিত্ব শতকরা ৫৫ ভাগ থেকে বৃদ্ধি করে শতকরা ৭০ ভাগ করা হয়েছে। এইরকম মডেলে চুক্তি সম্পাদন করলে বঙ্গোপসাগরের গ্যাস সম্পদ যে শুধু বিদেশি কোম্পানির দখলে চলে যাবে তাই নয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পায়নের জন্য গ্যাস সম্পদকে কাজে লাগানোও সম্ভব হবে না। তার ওপর এই ধরনের চুক্তির কারণে বাংলাদেশের আর্থিক বোঝাও সীমাহীন মাত্রায় বাড়বে।

অতএব জ্বালানী খাতে সরকারি চলতি বিভিন্ন পদক্ষেপ ও পরিকল্পনার অবশ্যম্ভাবী ফলাফল হলো- বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে জনগণের কর্তৃত্ব হ্রাস ও বহুজাতিক কোম্পানির কর্তৃত্ব বৃদ্ধি, নিজেদের গ্যাস বিদেশী কোম্পানির কাছ থেকে বেশি দামে ক্রয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ ও ভর্তুকীর চাপ বৃদ্ধি যার ফলাফল হলো একদিকে সংকট ও অনিশ্চয়তা বহাল থাকা অন্যদিকে বারবার বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি। প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে, আবারও বিদ্যুৎ এর মূল্য বৃদ্ধির পাঁয়তারা চলছে। তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার কমা সত্ত্বেও দেশে তা কমানো হয়নি।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,
আমরা দেশের অমূল্য সম্পদ নিয়ে দুর্নীতিযুক্ত স্বেচ্ছাচারিতার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তা বন্ধ করবার দাবি জানাচ্ছি। আমরা সরকারকে মনে করিয়ে দিতে চাই যে, দেশের সর্বজনের সম্পদ নিয়ে যথেচ্ছাচার ও ছিনিমিনি খেলার অধিকার সরকারের নেই। আমরা বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে যথাযথ পথ গ্রহণে সবসময়ই দাবি করে আসছি, জাতীয় কমিটির ৭ দফা দাবিতে তার সমাধানের পথও দেখিয়েছি। জাতীয় কমিটির ৭ দফা দাবী অনুযায়ী সর্বজনের সম্পদে শতভাগ মালিকানা ও শতভাগ সম্পদ দেশের কাজে ব্যবহার, দুর্নীতি করবার দায়মুক্তি আইন বাতিল করে খনিজসম্পদ রফতানি নিষিদ্ধকরণ আইন প্রণয়ন, পিএসসি প্রক্রিয়া বাতিল করে স্থলভাগে ও সমুদ্রে নতুন নতুন গ্যাস ক্ষেত্র অনুসন্ধানে জাতীয় সংস্থাকে প্রয়োজনীয় সুযোগ, ক্ষমতা ও বরাদ্দ প্রদান, রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট চালু, মেরামত ও নবায়ন, এশিয়া এনার্জিকে (জিসিএম) দেশ থেকে বহিষ্কার ও উন্মুক্ত খনন পদ্ধতি নিষিদ্ধ সহ ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন, জাতীয় সম্পদের উপর জাতীয় কর্তৃত্ব নিশ্চিত করবার জন্য জাতীয় সক্ষমতার বিকাশ, পরিবেশ ও জনস্বার্থ নিশ্চিত করার মাধ্যমে নবায়নযোগ্য ও অনবায়নযোগ্য জ্বালানী সম্পদের সর্বোত্তম মিশ্রণ ঘটিয়ে একটি জ্বালানী নীতি প্রণয়ন করে তার জন্য প্রয়োজনীর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নির্মাণ এবং জনশক্তি তৈরির কাজ শুরু, জনধ্বংসী পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদে নবায়নযোগ্য জ্বালানীর ওপর গুরুত্ব প্রদান।

সরকার যেহেতু তার উল্টোযাত্রা অব্যাহত রেখেছে সেহেতু আমরা সুন্দরবনবিনাশী ও জনধ্বংসী বিভিন্ন প্রকল্প, দুর্নীতি ও অস্বচ্ছতাযুক্ত জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তিসমূহ বাতিল করে জাতীয় কমিটির ৭ দফা বাস্তবায়নের দাবি নিয়ে আবারো আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করছি।

* আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি সোমবার ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে এবং ২৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার সারা দেশে প্রতিবাদ ও দাবি সমাবেশ হবে।
* ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চ ২০১৬ বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার সাথে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হবে। এবং
* আগামী ১০ থেকে ১৫ মার্চ ২০১৬ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সুন্দরবনমুখি জনযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।

আমরা আশা করি দলমত নির্বিশেষে দেশের সকল পর্যায়ের মানুষ সুন্দরবনসহ দেশের সম্পদ ও জনস্বার্থ রক্ষায় এসব কর্মসূচিতে অংশ নেবেন এবং জাতীয় জাগরণের মধ্য দিয়ে ভয়াবহ বিপর্যয়ের হাত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করবেন।

ধন্যবাদ।

তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি
রিপোর্টার্স ইউনিটি, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬