Thursday, December 4th, 2014

লিফলেট: ফুলবাড়ী মহাসমাবেশ, ২৭ ডিসেম্বর

শহীদের খুনে রাঙা পথে এশিয়া এনার্জি (জিসিএম) বা কোন দালাল বেঈমানের স্থান নাই

এশিয়া এনার্জি বহিষ্কার, গ্যারী লাইকে গ্রেফতার ও বিচার এবং ফুলবাড়ী চুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবিতে

মহাসমাবেশ

২৭ ডিসেম্বর ২০১৪, শনিবার, বেলা ৩টা, নিমতলা ফুলবাড়ী
দলে দলে যোগ দিন

— সারা দেশে উন্মুক্ত পদ্ধতি নিষিদ্ধ ও দেশ থেকে এশিয়া এনার্জি (জিসিএম) বহিষ্কারসহ রক্তে লেখা ‘ফুলবাড়ী চুক্তি’ অবিলম্বে পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে। ফুলবাড়ী ও বিরামপুর অঞ্চলে কোম্পানির অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে। এশিয়া এনার্জির অবশেষ অবিলম্বে সরাতে হবে। সন্ত্রাসী মাদকসেবীদের দিয়ে এলাকায় অশান্তি, সহিংসতা সৃষ্টি, চোরের মতো এলাকায় অনুপ্রবেশ ও চক্রান্ত, বেআইনীভাবে ফুলবাড়ীর খনি দেখিয়ে লন্ডনে শেয়ার ব্যবসা করার দায়ে গ্যারী লাইকে গ্রেফতার ও বিচার করতে হবে।

— বড়পুকুরিয়ায়  পুনর্বাসনের নামে জনগণকে অন্যত্র সরিয়ে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে খনি করার চক্রান্ত বন্ধ করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত সকল মানুষকে যথেষ্ট ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। নিরাপত্তা বালু ভরাট ইত্যাদি নিশ্চিত করে জাতীয় সংস্থার মাধ্যমে নিরাপদে কয়লা উত্তোলনের উদ্যোগ নিতে হবে। বড়পুকুরিয়া এলাকার পানি সংকট দূর করতে হবে।

— সমুদ্র ও স্থলভাগের গ্যাসসম্পদ শতভাগ দেশের স্বার্থে ব্যবহারের জন্য জাতীয় সক্ষমতা বাড়াতে হবে। ‘খনিজসম্পদ রফতানি নিষিদ্ধ আইন’ প্রণয়ন করে উত্তরবঙ্গে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

— গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে জাতীয় কমিটির ৭ দফা দাবী বাস্তবায়ন করতে হবে।

বন্ধুগণ,
আপনাদের মনে আছে, এশিয়া এনার্জি (বর্তমান নাম গ্লোবাল কোল ম্যানেজমেন্ট বা জিসিএম) দেশের আবাদী জমি পানি ও মানুষের সর্বনাশ করে মাত্র শতকরা ৬ ভাগ রয়্যালটি দিয়ে তারা দেশের কয়লা বিদেশে পাচার করতে চেয়েছিলো। ২০০৬ সালের ২৬ আগষ্ট লক্ষ মানুষের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে কোম্পানির লেলিয়ে দেয়া সরকারি বাহিনীর পাইকারি গুলিবর্ষণে শহীদ হন তিনজন তরুণ: আমিনুল, সালেকিন ও তরিকুল। গুলিবিদ্ধ হন ২০ জন, আহত হন দুইশতাধিক।  ৩০ আগষ্ট ‘ফুলবাড়ী চুক্তি’ স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে জনগণের বিজয় সূচিত হয়।  কিন্তু চক্রান্ত থামেনি। এই চুক্তির পক্ষে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় অঙ্গীকার সত্ত্বেও এখনও সেই ঐতিহাসিক চুক্তি বাস্তবায়ন হয়নি। সরকার বদলায় কিন্তু দেশি বিদেশি লুটেরাদের স্বার্থে লুটেরা চক্রান্তকারীদের ভ’মিকার কোন পার্থক্য দেখা যায় না।
ফুলবাড়ীর কয়লা খনির নামে বেআইনীভাবে এখনও লন্ডনে শেয়ার ব্যবসা করছে এশিয়া এনার্জি (জিসিএম)। আমরা এযাবতকালের সকল সরকারকে অবৈধ জালিয়াতিপূর্ণ বাংলাদেশবিরোধী এই অপতৎপরতা বন্ধ করবার দাবি জানিয়েছি। কিন্ত তার বদলে সব সরকারই এই জালিয়াত কোম্পানিকে পুনর্বাসন করবার অপচেষ্টায় লিপ্ত থেকেছে। শেয়ার ব্যবসার মুনাফার একাংশ ছড়িয়ে দেশে দালাল লুম্পেনদের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। ঢাকার মুখচেনা কতিপয় কনসালট্যান্ট, সাংবাদিক, মন্ত্রী , আমলা আর দিনাজপুর জেলার কতিপয় দুর্নীতিবাজ মাদকসেবী সন্ত্রাসী দেশের সর্বনাশ করে কোম্পানির স্বার্থরক্ষায় সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। এরা জনশত্রু। এদের চিনে রাখুন, এদের ক্ষমা নাই।

এদের ওপর ভর করেই এশিয়া এনার্জি বা জিসিএম বারবার ফুলবাড়ী বিরামপুরে অশান্তি সৃষ্টি করতে চেষ্টা করছে। ২০১২ সালে সরকার ১৪৪ ধারা জারি করে কোম্পানির প্রবেশ সুগম করতে চেয়েছিলো। জনপ্রতিরোধে ভেসে গেছে ১৪৪ ধারা। ২০১৩ সালে কোম্পানি কর্তা গ্যারী লাই ফুলবাড়ীতে প্রবেশ করতে চেয়েও জনগণের প্রতিরোধে ফিরে গেছে। সর্বশেষ গত ২৬ নভেম্বর চোরের মতো ফুলবাড়ীতে প্রবেশ করেছিলো গ্যারী লাই। জনগণ স্বতস্ফ’র্তভাবে প্রতিরোধে শামিল হয়েছেন। জনগণের তাড়া খেয়ে পুলিশ পাহারায় তাকে জান নিয়ে পালাতে হয়েছে। চক্রান্ত যেমন চলছে তেমনি প্রতিরোধও অব্যাহত আছে।

কোম্পানি আর তার দালালদের কাছে মুনাফা আর কমিশনই সব; প্রতারণা, মিথ্যাচার ও জালিয়াতিই তাদের প্রধান অবলম্বন। উন্মুক্ত খনি করতে গিয়ে দেশের অমূল্য আবাদি জমি, পানি সম্পদ, মানুষের জীবন জীবিকা ধ্বংস হোক, উত্তরবঙ্গ মরুভূমি হোক, ধ্বংসযজ্ঞ করে কয়লা বিদেশে পাচার হোক তাতে তাদের কিছু আসে যায না। ২০০৬ সালে এই দুর্বত্তদের হটিয়ে দিতেই ফুলবাড়ীতে মানুষ জীবন দিয়েছেন। রক্তে লেখা ফুলবাড়ী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। শহীদের রক্তের প্রতি আমাদের দায়, মাটি পানি ও মানুষের সর্বনাশ আমরা হতে দেবো না। দেশের মাটি ও মানুষের কাছে এ আমাদের জীবনের অঙ্গীকার। শিশু বৃদ্ধ, নারী পুরুষ, বাঙালী আদিবাসী সকলে সজাগ আর ঐক্যবদ্ধ থাকলে কারও ক্ষমতা নাই দেশের মানুষের সর্বনাশ করে ধ্বংসলীলা চালায়, তার সম্পদ লুট করে। আসুন আমরা সজাগ থাকি, দুর্বত্ত প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ থাকি।

৩ ডিসেম্বর ২০১৪
তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি