Thursday, October 23rd, 2014

সুন্দরবন রক্ষায় লেখক শিল্পী সংস্কৃতি কর্মীদের ‘প্রতিবাদী গান ও নাটক’

অসংখ্য প্রাণের সমষ্টি মহাপ্রাণ সুন্দরবন আজ এক ভয়াবহ আক্রমণের মুখে। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন ও বিশ্ব ঐতিহ্য বাংলাদেশের সুন্দরবন তার অসাধারণ জীববৈচিত্র দিয়ে সারাদেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে, লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকার সংস্থান করে, আবার প্রতিটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে লক্ষ লক্ষ মানুষকে বাঁচায়। দেশবাসীর প্রতিবাদ, ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা উপেক্ষা করে এই জীবনরক্ষীকে ধ্বংস করে এনটিপিসি ও ওরিয়নের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ এবং ভূমিদস্যুদের দখল সাম্রাজ্য নির্মাণের আয়োজন চলছে।

আমরা বারবার বলি সুন্দরবনের বিকল্প নাই, কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদনের অনেক বিকল্প আছে। প্রথমত, সকল বিধি মেনে, জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করে, স্বচ্ছতার সঙ্গে এবং জনসম্মতি নিশ্চিত করে বাংলাদেশের অন্যত্র এরকম বিদ্যুৎ কেন্দ্র হতে পারে। দ্বিতীয়ত, এই কেন্দ্র থেকে যে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে তার চাইতে বেশি বিদ্যুৎ, ২০ ভাগের ১ ভাগ অর্থে, বিদ্যমান বিদ্যুৎ কেন্দ্র মেরামত ও নবায়ন করেই পাওয়া সম্ভব। তৃতীয়ত, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার বৃহৎ উদ্যোগ ধ্বংসযজ্ঞ না করে বিদ্যুৎপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে পারে। চতুর্থত, সমুদ্র ও স্থলভাগের গ্যাস সম্পদ জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করে অনুসন্ধান ও উত্তোলন করলে বৃহৎ গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ প্লান্ট স্থাপন সম্ভব।

দেশি বিদেশি লুটেরাদের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে এই সহজপথগুলো গ্রহণ না করে সুন্দরবন ধ্বংস ও বঙ্গোপসাগরসহ দেশ বিপন্ন করে নানা নীতি গ্রহণ ও চুক্তি সম্পাদন করা হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ এই দেশের মানুষের-দেশি বিদেশি লুটেরাদের জিম্মি হবার জন্য বাংলাদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করে নাই। দেশের সম্পদ শতভাগ দেশের মানুষের কাজে লাগাতে হবে, বাংলাদেশ লুন্ঠন ও মুনাফার বলি হবে না। লুন্ঠন ও সম্পদবিনাশী নীতি পরিবর্তন, জনস্বার্থে উন্নয়ন নীতি গ্রহণ এবং জাতীয় সম্পদে জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধ জাগরণ দরকার। তাতে দেশের সকল পর্যায়ের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ দরকার।

সমাজের সবচাইতে সংবেদনশীল অংশ লেখক, চিত্রশিল্পী, সঙ্গীতশিল্পী, নাট্যকর্মীসহ সৃজনশীল ও মননশীল মানুষেরা কী করে চোখের সামনে এই মহাপ্রাণ সুন্দরবন ধ্বংস হতে দেখবেন? তাঁরাও বেদনাহত, বিক্ষুব্ধ, প্রতিবাদী। অনেকেই বিচ্ছিন্নভাবে এর প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। এই বেদনা, প্রতিবাদ ও আকাঙ্খাকে সামষ্টিকভাবে প্রকাশের জন্যই এই আয়োজন। স্থান-সোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সময়- বিকাল ৩.৩০ , ২৫ অক্টোবর ২০১৪।

বিপদের সময় সুন্দরবন আমাদের মায়ের মতো আগলে রাখে, আমাদের বাঁচায়; সুন্দরবন রক্ষা তাই আমাদের নিজেদেরই বাঁচানো। সারাদেশে সুন্দরবন  ও মানুষের পক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ দাবি তুলবে:

রামপালে সুন্দরবনধ্বংসী বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল কর। ভূমিদস্যুদের তৎপরতা বন্ধ কর।
স্থলভাগ ও সমুদ্রবক্ষের শতভাগ সম্পদ দেশের কাজে লাগাও।
বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে জাতীয় কমিটির ৭ দফা বাস্তবায়ন করতে হবে।
রক্তে ভেজা ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন চাই।
জাতীয় সক্ষমতা বিকাশে সামগ্রিক উদ্যোগ নিতে হবে।