Thursday, September 11th, 2014

১৩ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী জাতীয় কমিটির বিক্ষোভ কর্মসূচী

তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ এবং সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ এক যুক্ত বিবৃতিতে বঙ্গোপসাগর নিয়ে জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি প্রক্রিয়া বন্ধ, সুন্দরবনধ্বংসী বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল, ফুলবাড়ী ৬ দফা চুক্তির পূর্ণবাস্তবায়ন এবং লুন্ঠন দুর্নীতির দায়মুক্তি আইন বাতিলসহ জাতীয় কমিটির ৭ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের জ্বালানী ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের দাবিতে আগামি ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৪ তারিখে ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল কর্মসূচী সফল করবার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তাঁরা বলেন, বঙ্গোপসাগরের গ্যাস সম্পদের উপর শতভাগ মালিকানা নিশ্চিত করা হলে এবং জাতীয় সক্ষমতা বিকাশের মাধ্যমে সেই গ্যাস সম্পদ দিয়ে দেশের বিদ্যুতায়ন ও শিল্পায়নে ব্যবহার হলে বাংলাদেশে আগামি কয়েক দশকের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, এই ক্ষেত্রে বিদ্যমান সংকট থেকে দেশ মুক্ত হবে। গ্যাসভিত্তিক বৃহৎ বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা গুরুত্ব দিলে খরচ যেমন কম পড়বে, পানি ও আবাদী জমি ধ্বংসের বিপদও থাকবে না। কিন্তু সরকার বঙ্গোপসাগরের সম্পদ নিয়ে যে ধরনের চুক্তির পথে যাচ্ছে তাতে কার্যত আমাদের সম্পদ যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের বৃহৎ কোম্পানির মধ্যে ভাগ বাঁটোয়ারা ছাড়া তাকে আর কিছু বলা যায় না। এতে বাংলাদেশ এক বিশাল সম্ভাবনা থেকে বঞ্চিত হবে, অন্যদিকে জ্বালানী ও বিদ্যুৎ সংকটও দীর্ঘস্থায়ী হবে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, নিজেদের সম্পদ বিদেশিদের দিয়ে বিদেশী কোম্পানি ও দেশি লুটেরাদের স্বার্থে সুন্দরবন ধ্বংসী রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং বড়পুকুরিয়ায় উন্মুক্ত কয়লা খনির চক্রান্ত করা হচ্ছে। উন্মুক্ত খনি দেশের অমূল্য পানিসম্পদ ও আবাদী জমি ধ্বংস করবে। প্রাকৃতিক রক্ষা বাঁধ সুন্দরবন ধ্বংস হলে শুধু দেশের অমূল্য জীববৈচিত্র নষ্ট হবে না, কয়েক কোটি মানুষের জীবনও বিপন্ন হবে।

নেতৃবৃন্দ এসব দেশবিরোধী তৎপরতা থেকে সরকারকে সরে আসার দাবি জানান এবং জাতীয় স্বার্থে বৃহত্তর ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য জাতীয় কমিটির ধারাবাহিক কর্মসূচিতে অংশ নেবার দেশের সকল পর্যায়ের মানুষকে আহবান জানান।