Thursday, August 28th, 2014

ফুলবাড়ী দিবসে ঢাকার সমাবেশে নেতৃবৃন্দ: জনমত উপেক্ষা করে উন্মুক্ত খনন হবে আত্মঘাতী

ফুলবাড়ী দিবসে ঢাকায় আয়োজিত সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, জনমত উপেক্ষা করে মানুষ-পানি-মাটি-পরিবেশ ধ্বংসকারী উন্মুক্ত খনন পদ্ধতিতে ফুলবাড়ী, বড়পুকুরিয়া অঞ্চলে কয়লা তোলার সিদ্ধান্ত হবে আত্মঘাতি। এটি করার প্রচেষ্টা নেওয়ার মধ্য দিয়ে বহুজাতি কোম্পানি ও এদের দেশীয় কমিশন ভোগী এজেন্ট আর লুটেরাদের খুশী করা যাবে কিন্তু জনগণের প্রতিরোধে ঐ অপস্বপড়ব বাস্তবায়িত হবে না।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ২০০৬ সালে বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে ফুলবাড়ী হত্যাকান্ডের পর ঐ অঞ্চলে সমাবেশ করে তৎকালীন বিরোধী দলের নেত্রী, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফুলবাড়ী চুক্তি প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছিলেন, এই চুক্তি না মানার পরিণাম হবে ভয়াবহ। অথচ তিনি আজ ঐ চুক্তির বরখেলাপ করে চলেছেন।
আজ ২৬ আগস্ট সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জাতীয় কমিটিসহ বিভিনড়ব রাজনৈতিক দল, সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পমাল্য অর্পন ও এক মিনিট দাঁড়িয়ে ফুলবাড়ী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান হয়।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাতীয় কমিটির সংগঠক অধ্যাপক এম এম আকাশ, অধ্যাপক আকমল হোসেন ও রুহিন হোসেন প্রিন্স। উপস্থিত ছিলেন সাইফুল হক, রাজেকুজ্জামান রতন, অ্যাড. আব্দুস সালাম, রাগীব আহসান মুনড়বা, মোশারফ হোসেন নানড়বু, ফিরোজ আহমেদ, ফখরুদ্দিন কবির আতিক, শহিদুল ইসলাম সবুজ, আবু তাহের, প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক, মাসুদ খান প্রমুখ।

সমাবেশে অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, ফুলবাড়ী, বড়পুকুরিয়াতে কয়লা তোলার জন্য কোন বিচারেই উন্মুক্ত পদ্ধতি গ্রহণযোগ্য নয়। কোন বিশেষজ্ঞ কমিটি এ ব্যাপারে মত দেয়নি। এটি ধ্বংসযজ্ঞ ডেকে আনবে। ৬ ভাগ রয়ালিটির বিনিময়ে এই ধ্বংসযজ্ঞের সিদ্ধান্ত এলাকার জনগণ রুখে দাঁড়িয়েছিল। আবার কোন অপচেষ্টা হতে থাকলে স্থানীয় জনগণের সাথে মিলে দেশবাসী তা রুখে দাঁড়াবে। তিনি ঐ অঞ্চলে জনগণের সম্মতি নিয়ে দেশের স্বার্থ অক্ষুণড়ব রেখে কম ক্ষতি করে উন্মুক্ত পদ্ধতি বাদ দিয়ে অন্য কোনো আধুনিক পদ্ধতিতে কয়লা তোলার পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান।

অধ্যাপক আকমল হোসেন বলেন, ফুলবাড়ীর ৬ দফা চুক্তির সাথে যারা বেঈমানী করেছে জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না। তিনি এশিয়া এনার্জিকে দেশ থেকে বিতাড়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এরা নতুন দালাল সৃষ্টি করে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা তোলার আয়োজন করছে। এরা লন্ডনের শেয়ার বাজারে মিথ্যা তথ্য দেখিয়ে শেয়ার বিক্রি করে চলেছে।

রুহিন হোসেন প্রিন্স ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ চুক্তিতে ছিল দেশের কোথাও উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা তোলা যাবে না। অথচ দেশি-বিদেশি লুটপাটকারীদের খুশী করতে আবারও উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা তোলার প্রচেষ্টা নেওয়া হচ্ছে। তিনি জ্বালানি ‘দায়মুক্ত’ আইনের মেয়াদ বাড়ানোর সমালোচনা করে বলেন, দুর্নীতির এই বড় খাতের দুর্নীতিবাজদের বিচার যাতে ভবিষ্যতে না করা যায় সেই জন্য এই দায় মুক্তি আইন। তিনি গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে জাতীয় কমিটির ৭ দফা বাস্তবায়নের দাবি জানান।

জাতীয় কমিটি ছাড়াও যে সব রাজনৈতিক দল, সংগঠন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণের মধ্য দিয়ে ফুলবাড়ী গণঅভ্যুত্থানের শহীদ তরিকুল, সালেকীন, আমিনের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তারা হলেন : বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ, গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা, বিপ−বী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাসদ কনভেনশন প্রস্তুতি কমিটি, গণতান্ত্রিক বিপ−বী পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপা, গ্রীন ভয়েস, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, সংস্কৃতির নয়া সেতু প্রভৃতি।

ফুলবাড়ীসহ দেশের প্রতিটি জেলায় “ফুলবাড়ী দিবস” উপলক্ষে নানা কর্মসূচি চলছে।