Saturday, May 24th, 2014

‘সুন্দরবন ধ্বংসী প্রকল্প বাতিল, শেভরন ও নাইকোর কাছ থেকে ক্ষতিপূরন আদায় এবং জাতীয় স্বার্থে জ্বালানি নীতি প্রণয়নের দাবিতে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাতীয় কমিটির কর্মসূচী ঘোষণা’

‘সুুন্দরবন, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ খাত : সরকারের তৎপরতা ও বাজেট ২০১৪’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সুন্দরবন ধ্বংসের সব ব্যবস্থা নিশ্চিত করে ভারতীয় কোম্পানির কর্তৃত্বাধীন রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে। সকল নিয়মনীতি, পরিবেশ আইন অগ্রাহ্য করে সুন্দরবনের আরও কাছে কয়লা ভিত্তিক আরেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশের ওরিয়ন কোম্পানিকে অনুমতি দিয়েছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় জমিদখলে ভূমিদস্যুদের তৎপরতাও বেড়েছে। নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রতি অবিশ্বাস্য মাত্রায় নির্লিপ্ততা দেখিয়ে, পরিবেশ সমীক্ষা না করে, অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা না করে, দেশের বিশেষজ্ঞদের মতামত থোড়াই কেয়ার করে, নিজস্ব সক্ষমতা না বাড়িয়ে, রাশিয়ার কাছ থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে তাদের পূর্ণ কর্তৃত্বে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজে কয়েক দফা চুক্তিকরেছে সরকার। পরিবেশগত সমীক্ষা না করে মহেশখালী এলাকায় একের পর এক চুক্তি করছে সরকার।

পিএসসি ২০১২ সংশোধন করে চাহিদামতো আরও সুবিধা বাড়িয়ে বঙ্গোপসাগরের গ্যাস সম্পদ বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দিতে চুক্তি করতে শুরু করেছে সরকার। ইতিমধ্যে বাড়তি সুবিধা দিয়ে ভারতীয় কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন করা হয়েছে। এসব তৎপরতা বিদ্যুৎ উৎপাদনে নয় দেশের সম্পদ ধ্বংস করে লুটপাটের অব্যাহত রাখা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার সত্ত্বেও এখনও রক্তে লেখা ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। আবাদি জমি, পানি সম্পদ ও জনবসতি ধ্বংস করে কয়লা সম্পদ লুন্ঠন ও পাচারের প্রকল্প নিয়ে এশিয়া এনার্জি এখনও চক্রান্ত করছে। সন্ত্রাসী ও মাদকসেবীদের দিয়ে ফুলবাড়ী বড়পুকুরিয়া বিরামপুর এলাকায় দালাল তৈরীর চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে কমিশনভোগীদের তৎপরতা চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, বিদ্যুৎ নিয়ে সরকারের ভূল নীতির কারনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়ছে একই সাথে ভর্তুকির বোঝাও বাড়ছে। বিদ্যুৎ খাতে বরাদ্দের ৭৬ শতাংশ চলে যায় রেন্টাল কুইক রেন্টাল খাতে। বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানোর থেকে বড় কথা হলো ঐ টাকা কোন কোন খাতে ব্যয় হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি জানিয়ে বলা হয়, গ্যাস ও কয়লা সম্পদে জাতীয় মালিকানা নিশ্চিত করতে হবে। শতকরা একশ ভাগ গ্যাস ও শতকরা একশ ভাগ কয়লা বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যবহার করতে হবে বলেই এই কয়লা বা গ্যাস বিদেশী মালিকানায় দেওয়া যাবে না, বিদেশে পাচার করার লক্ষ্যে রপ্তানিমুখী কোনো চুক্তিও তাই থাকা চলবে না। দুর্নীতি করবার দায়মুক্তি আইন বাতিল করে রফতানি নিষিদ্ধ করবার আইন করতে হবে। বিদ্যুৎকে গণসেবাভিত্তিক পণ্য হিসেবে বিবেচনা করে বেশি দামে বিদ্যুৎ কেনার ও বিদ্যুৎ খাতকে মুনাফার দেশি বিদেশি কোম্পানির হাতে জিম্মি করবার বিদ্যমান নীতি, চুক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা থেকে দেশকে মুক্ত করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে’ সুন্দরবন ধ্বংসী রামপাল ও ওরিয়ন এর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল ও বিদ্যুৎ গ্যাস সমস্যা সমাধানে জাতীয় কমিটির ৭ দফা বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।
রেন্টাল পাওয়ারের চুক্তি বাতিল করে রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট চালু, মেরামত ও নবায়ন করা। মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে বৃহদাকার গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট স্থাপন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানীভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ শুরুর আহ্বান জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে শেভরন ও নাইকোর কাছ থেকে আমাদের পাওনা ৫০ হাজার কোটি টাকা আদায়ের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহনের দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় স্বার্থ, স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পরিবেশ ও জনস্বার্থ নিশ্চিত করার মাধ্যমে নবায়নযোগ্য ও অনবায়নযোগ্য জ্বালানী সম্পদের সর্বোত্তম মিশ্রণ ঘটিয়ে একটি জ্বালানী নীতি প্রণয়ন করে তার জন্য প্রয়োজনীর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নির্মাণ শুরুর দাবি জানানো হয়। একই সাথে জাতীয় কমিটির কর্মসূচীর মধ্যে-
#    আগামী ২রা জুন ফুলবাড়ীতে প্রতিবাদ সভা;
#    সুন্দরবন রক্ষায় ৩ জুন ও ৪ জুন যথাক্রমে খুলনা ও বাগেরহাটে অবস্থান কর্মসূচি;
#    ১৪ জুন মাগুরছড়া দিবস পালন;
#    সুন্দরবন রক্ষায় ২১ জুন খুলনায় বিভাগীয় কনভেনশন;
#    জুলাই-আগষ্ট দেশব্যাপী সফর কর্মসূচি;
#    ১৮-২০ আগষ্ট খুলনা থেকে সুন্দরবন সাংস্কৃতিক অভিযাত্রা;
#    ২৬ আগষ্ট দেশব্যাপী ফুলবাড়ী দিবস পালন;
#    ১৩ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভা এবং ঐ সভা থেকে সুন্দরবন রক্ষা, ফুলবাড়ী চুক্তি বাস্তবায়নসহ ৭ দফা বাস্তবায়নে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়।

২৪ মে ২০১৪ সকালে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ফিল্ম অডিটোরিয়ামে তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। এছাড়া বক্তব্য দেন ও উপস্থিত ছিলেন প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক, অধ্যাপক তানজিম আহমদ খান, প্রকৌশলী কল্লোল মোস্তফা, অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানা, রুহিন হোসেন প্রিন্স, রাজেকুজ্জামান রতন, রাগিব আহসান মুন্না, নজরুল ইসলাম, কিশোর রায়, ফখরুদ্দিন কবির আতিক, শহীদুল ইসলাম সবুজ, মোশাহিদ আহমেদ, সুবল সরকার, মহিন উদ্দীন চৌধুরী লিটন প্রমুখ।

সংবাদ সন্মেলনে উপস্থাপিত পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশানটির ডাউন লোড লিংক:

সংবাদ সন্মেলন-২৪ মে, ২০১৪