Tuesday, May 6th, 2014

মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প: স্থানীয় জনগণের মতামত ও বিকল্প প্রস্তাব

মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে প্রস্তাবিত ১২০০ মেগাওয়াটের দুটি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প বিষয়ে গুরুতর অনিয়ম ও জবরদস্তির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে— স্থানীয় জনগণের মতামত উপেক্ষা করে বিকল্প থাকা সত্ত্বেও জোরপূর্বক লবণ ও চিংড়ি চাষের জমি অধিগ্রহণের তত্পরতা, পরিবেশ সমীক্ষা না করেই স্থান চূড়ান্তকরণ ইত্যাদি। স্থানীয় জনগণের বক্তব্য হলো, তারা কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পটির বিরোধিতা করছেন না, তাদের আপত্তি কেবল প্রকল্পের স্থান নির্বাচন নিয়ে, সরকারের তত্পরতার ধরন নিয়ে। সরকার যে স্থানটিতে কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প করবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটি তাদের জীবিকার একমাত্র উত্স। এখানে বছরের ছয় মাস (শুকনো মৌসুম) তারা লবণ চাষ করেন এবং বাকি ছয় মাস (বর্ষা মৌসুম) করেন চিংড়ি ও ধান চাষ।

ছবি: মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত জমি

তাদের বক্তব্য হলো, এ স্থানের আরো দক্ষিণে হাসের দিয়া নামে যে বিশাল চরাঞ্চল আছে, সেখানে কোনো জনবসতি নেই, স্থানটিও উঁচু ভূমি, সেখানে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হলে তাদের কোনো আপত্তি থাকবে না। কিন্তু স্থানীয় জনগণের ধারণা হাসের চরাঞ্চলটি মাতারবাড়ী অঞ্চলের মতো ‘রেডিমেড’ নয় বলে অর্থাৎ চারপাশে বেড়িবাঁধ ও সড়ক যোগাযোগ এখনো তৈরি না হওয়ায় সরকার সময় ও খরচ বাঁচাতে তড়িঘড়ি করে তাদের এ জীবিকাস্থল ধ্বংস করে হলেও মাতারবাড়ীর রেডিমেড অঞ্চলটিতে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র করতে চাইছে।

ছবি: প্রকল্পের নথি অনুসারে অধিগ্রহণের জন্য নির্ধারিত জমি

প্রকল্পের নথিপত্র অনুসারে মাতারবাড়ী-ধলঘাটা মৌজায় প্রকল্পের স্থান নির্বাচনের যুক্তি হলো— কয়লা আনলোডিংয়ের সুবিধা ও প্রকল্প এলাকাটি অনাবাসিক। স্থানীয় জনগণের বক্তব্য, সুবিধাগুলো তাদের প্রস্তাবিত হাসের চরেও রয়েছে। উল্টো দিকে মাতারবাড়ী-ধলঘাটা অঞ্চলে অধিগ্রহণের জন্য নির্ধারিত ১ হাজার ৫০০ একর জমিতে বসতি না থাকলেও ওই স্থানটি তাদের বসতির শর্ত। অর্থাৎ চারপাশের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার ৮০ হাজারের বেশি মানুষের জীবিকার উত্স স্থানটি অধিগ্রহণ করা হলে এ এলাকায় বসবাস করার আর কোনো উপায় তাদের থাকবে না। ফলে এ জমি অধিগ্রহণ তাদেরকে উচ্ছেদ করারই শামিল। ১ হাজার ৫০০ একরের লবণ, ধান ও চিংড়ি চাষের জমি অধিগ্রহণ করা হলে ওই জমিটুকুর মালিকরা ক্ষতিপূরণ পেলেও পরোক্ষভাবে এভাবে বসতি থেকে উচ্ছেদের তো কোনো ক্ষতিপূরণ হবে না। যারা এ জমি বর্গা নিয়ে লবণ কিংবা চিংড়ি চাষ করছেন, যারা এ জমিতে মজুর হিসেবে নানান কাজ করছেন, যারা উৎপাদিত লবণ ও চিংড়ি পরিবহন ও বাজারজাত করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তাদের কী হবে? কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে তো এই হাজার হাজার জীবিকা হারানো লোকের কর্মসংস্থান হবে না। কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে যে সামান্য কয়েকশ লোকের কর্মসংস্থান হবে, তার জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতাও তো তাদের নেই। তাছাড়া প্রস্তাবিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের গাঁ-ঘেষেই তাদের বসতি। দ্বীপাঞ্চল হলেও মহেশখালীর এ অঞ্চল বাংলাদেশের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার একটি। ১২ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষ বাস করে অর্থাৎ জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৬ হাজার ৬৬৭।

কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দূষণের কারণেও এই বিশালসংখ্যক মানুষের পক্ষে এ এলাকায় থাকা সম্ভব হবে না। সরকারের লোকজন যখন তাদেরকে সিঙ্গাপুর বানানোর কথা বলেছেন, হাসপাতাল-স্কুল-কলেজসহ উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি শুনিয়েছেন, তারা বলেছেন, ‘আমাদের জীবিকা ধ্বংস হয়ে গেলে আমরা তো এ এলাকায় থাকতেই পারব না। যে এলাকায় আমরা থাকতে পারব না, সে এলাকা সিঙ্গাপুর হলেই কী আর বেহেশত হলেইবা কী!’
২. আমরা বরাবরই দেখেছি, শাসকরা উন্নয়নের কথা বলে যেসব প্রকল্প হাতে নেন, তার সঙ্গে জনগণের উন্নয়নের কোনো সম্পর্ক থাকে না; স্থানীয় জনগণের মতামত নেয়ার কোনো প্রয়োজন তারা বোধ করেন না। তাদেরকে কথিত উন্নয়নের অংশীদার করার ব্যাপারেও কোনো মনোযোগ দেখা যায় না। দেশের বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে মহেশখালীর মাতারবাড়ী-ধলঘাটায় প্রস্তাবিত কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের বেলায়ও একই ঘটনা ঘটছে। এত বড় একটি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প হচ্ছে অথচ কোনো পরিবেশ সমীক্ষা না করেই সরকার এর স্থান চূড়ান্ত করে ফেলেছে। গত ৫ মার্চ কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ভূমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত জানিয়ে ৬ ধারার নোটিস জারি করা হয়েছে। এভাবে পরিবেশ সমীক্ষার আগেই যদি স্থান চূড়ান্ত করে জমি অধিগ্রহণ করে ফেলা হয়, তাহলে পরে যে পরিবেশ সমীক্ষা করা হবে তার উদ্দেশ্য লোক দেখানো ছাড়া আর কী-ইবা হতে পারে!

ছবি: প্রকল্পের নথি অনুসারে অধিগ্রহণের জন্য নির্ধারিত জমি
শুধু পরিবেশ সমীক্ষাই নয়, স্থানীয় জনগণের মতামত নেয়া বা তাদের তোলা যুক্তিসঙ্গত আপত্তিগুলোও সরকার শুনছে না। গত বছরের ৩০ জুলাই জমি অধিগ্রহণের আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ৩ ধারার নোটিস জারি করার আগে স্থানীয় জনগণ জানতেও পারেননি তাদের জমি অধিগ্রহণ করে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার। ১৯৮২ সালের স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল অধ্যাদেশের ৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী, সরকার কোনো জমি অধিগ্রহণ করতে চাইলে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জমির মালিকদের নোটিস দিয়ে জানানোর যে আইনি বাধ্যবাধকতা আছে, তা না থাকলে এটুকুও হয়তো এলাকাবাসী জানতে পারতেন না। এমনকি ৩ ধারার নোটিসের জবাবে তারা লিখিতভাবে যে আপত্তিগুলো জানিয়েছিলেন, সেগুলোও আমলে নেয়া হয়নি এবং কোনো সুরাহা না করেই জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে জমি অধিগ্রহণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তসংবলিত ৬ ধারার নোটিস জারি করা হয়েছে।

ছবি: ৬ ধারার নোটিশ
গত বছরের ৩০ জুলাই জারিকৃত ৩ ধারার নোটিস পাওয়ার পর ১৪ আগস্ট জমির মালিকরা লিখিতভাবে যে যুক্তি ও আপত্তিগুলো তুলে ধরেছিলেন, তার মধ্যে রয়েছে:

-বিদ্যুৎ প্রকল্পভুক্ত দ্বীপটির আয়তন মাত্র ১২ বর্গকিলোমিটার, যেখানে ইউনিয়ন পরিষদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমান জনসংখ্যা ৮০ হাজারেরও বেশি। এ পরিসংখ্যান অনুযায়ী জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রায় ৬ হাজার ৬৬৭ জন।

-এ বিশাল জনগোষ্ঠীর আয়ের একমাত্র উত্স প্রকল্পভুক্ত জমিতে লবণ উৎপাদন ও মত্স্য চাষ বন্ধ হলে এ দ্বীপের সিংহভাগ মানুষ বেকারত্বের অভিশাপে জর্জরিত হবে।

-মাতারবাড়ী ও ধলঘাটার দক্ষিণ ও পশ্চিমে হাসের দিয়া চর খাসজমি হিসেবে পতিত আছে। সেখানে আনুমানিক ২ হাজার একরেরও বেশি জমি প্রকল্পভুক্ত করা সম্ভব।

-প্রকল্পভুক্ত জমি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ লবণ শিল্প ও রফতানিযোগ্য চিংড়ি চাষে ব্যবহার হয়। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ লবণের চাহিদা পূরণে এসব জমি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এ জমিতে উৎপাদিত চিংড়ি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

-প্রকল্পভুক্ত জমিতে বসতবাড়ি ও ইউনিয়নের সর্বসাধারণের বর্ষা মৌসুমের পানি চলাচলের পথ ও নালা রয়েছে।

-বিদ্যুৎ প্রকল্পের স্থানটি সামান্য দক্ষিণে স্থানান্তর করে ওই হাসের দিয়া চরকে প্রকল্পভুক্ত করা হলে সরকারের প্রচুর অর্থ সাশ্রয় হবে এবং দারিদ্র্যকবলিত এলাকার জনগণ বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে।

যথারীতি জনগণের এই সুনির্দিষ্ট আপত্তিগুলো আমলে নেয়ার কোনো প্রয়োজন বোধ করেনি সরকার।

নিশ্চয়ই জনগণের তোলা এ আপত্তিগুলোর চেয়ে ৩ ধারার নোটিস জারির এক মাস আগে কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি কর্তৃক ২০১৩ সালের ২৩ জুন ‘ধর্মীয় বা অন্য কোনো প্রতিবন্ধকতাহীনতার প্রত্যয়নপত্র’ই সরকারের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে! ফলে জমি অধিগ্রহণের আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার কাজ চলতে থাকে। যার ফলাফল হলো, গত ৫ মার্চ কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ভূমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত জানিয়ে ৬ ধারার নোটিস।

৩. সরকার যখন জনগণের মতামতের তোয়াক্কা না করে বিকল্প থাকা সত্ত্বেও তাদের জীবিকা ধ্বংসের আয়োজন চূড়ান্ত করছে, স্থানীয় জনগণও কিন্তু বসে নেই। স্থানীয় আওয়ামী লীগ-বিএনপি-জামায়াত-জাতীয় পার্টিসহ সব রাজনৈতিক দল-ব্যক্তির সমন্বয়ে মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র প্রতিরোধ কমিটি গঠন করেছেন তারা। কমিটির আহ্বায়ক আওয়ামী লীগ নেতা ও মাতারবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক রুহুল, সদস্য সচিব আওয়ামী লীগ নেতা মাস্টার মাহমুদুল্লাহ। এছাড়া কমিটির সঙ্গে নানাভাবে যুক্ত আছেন সাবেক চেয়ারম্যান-মেম্বারসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। ৩ ধারার নোটিস জারি করার পর গত বছরের ১৫ আগস্ট কমিটির পক্ষ থেকে মাতারবাড়ীতে কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিলের দাবিতে ঝাড়ু ও লাঠি মিছিল আয়োজন করা হয়। মিছিলে লাঠি হাতে হাজার হাজার মানুষ যোগ দেয়।

ছবি: স্থানীয় সংবাদ পত্রে মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিলের দাবীতে আন্দোলনের খবর
এরপর থেকে বিক্ষোভ মিছিল, ইউএনও অফিস ঘেরাও, সমাবেশ, মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়। লক্ষণীয় বিষয় হলো, স্থানীয় পত্রপত্রিকায় এ বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলেও জাতীয় গণমাধ্যমে তাদের এ আন্দোলন এখনো তেমন গুরুত্ব পায়নি, জাতীয় গণমাধ্যম যেন দেখেও না দেখার ভান করছে।


ছবি: স্থানীয় সংবাদ পত্রে মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিলের দাবীতে আন্দোলনের খবর
২০১৩ সালের ৬ অক্টোবর মাতারবাড়ীর জনগণের পক্ষে মো. রফিকুল ইসলাম, আবুল হাশেম, মোহাম্মদ হোসেন ও আলতাফ হোসেন কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিলের আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট গত ২ ফেব্রুয়ারি কেন মহেশখালীর প্রস্তাবিত কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পটি বাতিল করা হবে না এ মর্মে সরকারের বিভিন্ন দফতর বরাবর একটি রুল জারি করে। সরকারি দফতরগুলো কর্তৃক সেই রুলের জবাব দেয়ার কোনো খবর এখনো পাওয়া যায়নি, উপরন্তু হাইকোর্টের রুল জারি থাকা অবস্থায়ই গত ৫ মার্চ ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ৬ ধারার নোটিস জারি করা হলো। এ অবস্থায় স্থানীয় জনগণ আবারো জোর আন্দোলনের লক্ষ্যে সংগঠিত হচ্ছে।

৪. কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বৃহদায়তন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়ম-কানুন ও প্রক্রিয়া রয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রস্তাবিত প্রকল্পের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত প্রভাব বিষয়ে সমীক্ষা, স্থানীয় জনগণের মতামত ও সম্মতি গ্রহণ, গণশুনানি ইত্যাদির ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নিতে হয় প্রকল্পটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে বাস্তবায়ন করা হবে নাকি বিকল্প কোনো স্থানে স্থানান্তর করা হবে। এই সাধারণ নিয়ম-কানুনগুলো মেনে না চলাই যেন বাংলাদেশের নিয়ম। এখানে আগে স্থান চূড়ান্ত করা হয়, তারপর তা জায়েজ করার জন্য সমীক্ষা করা হয়। প্রকল্পের ভালো-মন্দ সব বিষয়ে স্থানীয় জনগণকে যথাযথভাবে অবহিত করে সম্মতি নেয়ার বদলে হয় মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে অথবা গায়ের জোরে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়। উন্নয়নের অংশীদারিত্বের বদলে জনগণের ভাগ্যে জোটে বিপর্যয় ও ধ্বংসের অংশীদারিত্ব। ফলে যৌক্তিক কারণেই এ ধরনের প্রকল্পের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি হয়, প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। মহেশখালীর মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে সরকার যেভাবে এগোচ্ছে, তার ফলে প্রকল্পটির ক্ষেত্রেও একই রকম ঘটনা ঘটছে। সরকার যদি সত্যিকার অর্থে বিদ্যুৎ সংকট সমাধান করার জন্যই কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে চায়, তাহলে স্থানীয় জনগণের আপত্তি ও মতামতকে পাশ কাটিয়ে বা তাদের জীবন-জীবিকা ধ্বংস করে নয়, তাদের মতামতকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করেই প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশের ক্ষতি না করার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিশ্চিত করে বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে।