Thursday, April 3rd, 2014

ভারত বিদ্বেষ প্রবলতর করতে না চাইলে রামপাল প্রকল্প বাতিল করুন

তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ এবং সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেছেন, “বিশেষজ্ঞ ও সকল পর্যায়ের মানুষের ধারাবাহিক প্রতিবাদ সত্ত্বেও সুন্দরবন তথা বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন, পানিসম্পদ ও প্রাণবৈচিত্র বিপর্যস্ত করে ভারতের এনটিপিসি বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় সুন্দরবনের সন্নিকটে রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। গতকাল ২ এপ্রিল ভারতের একটি প্রতিনিধিদল এলাকা সফর করে আবারো ভ্রান্ততথ্য দিয়ে এই প্রকল্প জায়েজ করবার চেষ্টা করেছেন।”

আমরা জানি ভারতে সুন্দরবনের চাইতে অনেক ছোট বন, আবাদী জমি রক্ষার জন্য এনটিপিসির একাধিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল হয়েছে। অথচ ভারতের আইন লঙ্ঘন করে ভারতীয় কোম্পানি বাংলাদেশে সুন্দরবন ধ্বংসের এই আয়োজন করছে। আমরা এও জানি যে, গত ১৩ মার্চ ভারতের ন্যাশনাল গ্রীণ ট্রাইব্যুনাল কর্ণাটকে এনটিপিসির প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিবেশ ছাড়পত্র স্থগিত করেছে। স্থগিত করবার কারণ হিসেবে ট্রাইব্যুনাল বলেছে, (১) পরিবেশ ছাড়পত্র পাবার জন্য এনটিপিসি প্রকল্প এলাকার জমি সম্পর্কে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছে, দুই ফসলী জমিকে অনুর্বর ও পাথুরে জমি বলে চালিয়ে দিয়েছে। (২) ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন পরিকল্পনার প্রণয়নের আগেই পরিবেশ ছাড়পত্র দেয়া হয়েছিলো। (৩) কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্ষতিকর প্রভাব অনেক কম করে দেখানো হয়েছিলো (৪) স্থানীয় জনগণের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছিলো।

এনটিপিসির বিরুদ্ধে যেসকল গুরুতর অভিযোগ ভারতের কর্ণাটকের বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে উত্থাপিত হয়েছে বাংলাদেশের সুন্দরবনের কোলে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে তার চাইতে আরও অনেক গুরুতর অনিয়ম, তথ্যগোপন, প্রতারণা ও বিভ্রান্তিকর প্রচারের তথ্যপ্রমাণ আছে। অথচ বাংলাদেশ সরকার এই অসাধারণ, অনবায়নযোগ্য, সমুদ্র থেকে আসা সাইক্লোন থেকে লক্ষ লক্ষ প্রাণ রক্ষাকারী প্রাকৃতিক বর্ম সুন্দরবন সম্পদকে সম্পুর্ন ধ্বংসের মুখে নিক্ষেপ করে এই বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে। এমনিতেই ভারতের ফারাক্কা বাঁধের কারণে সুন্দরবন সহ বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বিপর্যস্ত, তিস্তাসহ নদী নিয়ে একতরফা ভূমিকার কারণে বাংলাদেশ ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে, উপরন্তু সুন্দরবন ধ্বংসী এই প্রকল্পকাজ অগ্রসর হলে বাংলাদেশে ভারতের প্রতি ন্যায় সঙ্গত অসন্তোষ বহুগুণ বৃদ্ধি করবে।

আমরা বাংলাদেশ সরকারকে এই আত্মধ্বংসী প্রকল্প থেকে অবিলম্বে সরে আসার দাবি জানাই। ভারত সরকারকে জানাতে চাই বাংলাদেশে সঙ্গত ভারত বিদ্বেষ তীব্রতর করতে না চাইলে অবিলম্বে এই প্রকল্প বাতিল করুন। আমরা ইউনেস্কোর প্রতি আহবান জানাই, বিশ্ব হেরিটেজ সুন্দরবন ধ্বংসের এই আয়োজনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ দায়িত্ব পালন করুন।