Tuesday, March 25th, 2014

স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় কমিটির গণশপথ

সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত এই বাংলাদেশে, লাখো শহীদের নামে আমরা শপথ নিচ্ছি যে, মুক্তিযুদ্ধের গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা সমুন্নত রাখবার প্রতিজ্ঞায়, নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে জনগণের লড়াইয়ে আমরা দৃঢ়ভাবে শামিল থাকবো। আমরা মনে করি, বর্তমান সময়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানে জাতীয় সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা, জাতীয় সম্পদ রক্ষা ও জাতীয় সক্ষমতার বিকাশ এবং জনগণের সম্পদের উপর জনগণের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানে নিপীড়ন, আধিপত্য ও বৈষম্যমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা। আমাদের শপথ, সাম্রাজ্যবাদ ও দেশীয় লুটেরা ধনিকশ্রেণীর শৃঙ্খল, ও রাজনৈতিক অর্থনৈতিক বিধিব্যবস্থার বিরুদ্ধে সক্রিয় অবস্থান গ্রহণ করেই আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাস্তবায়ন করবো।

আমরা, বাংলাদেশের নাগরিকবৃন্দ আরও শপথ নিচ্ছি যে, বাংলাদেশের মাটি পানি সমুদ্র বন বালি ও মাটির নীচের সকল প্রাকৃতিক সম্পদের উপর বাংলাদেশের জনগণের শতভাগ মালিকানা নিশ্চিত করতে, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জ্বালানী নিরাপত্তা; শিল্পায়ন, বিদ্যুৎ, কৃষি উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং সর্বোপরি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য আমরা সদা জাগ্রত থাকবো। আর তাই বাংলাদেশের জনগণকে বঞ্চিত করে সাম্রাজ্যবাদ বা বহুজাতিক পুঁজির হাতে এই সম্পদ তুলে দেয়া কিংবা রফতানিসহ নানা অজুহাতে পাচার করবার সকল জনস্বার্থবিরোধী, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ চুক্তি, সমঝোতা, নীতি ও ব্যবস্থাবলীর বিরুদ্ধে নিজেদের সকল শক্তি নিয়োজিত করবো। সুন্দরবনধ্বংসী রামপাল কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, বঙ্গোপসাগরে জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি বাতিল করতে আমরা তাই আমাদের সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে লড়াই করবো। জাতীয় মালিকানা ও জাতীয় স্বার্থ প্রতিষ্ঠায় আমরা আমাদের লড়াই অব্যাহত রাখবো। দেশি ও বিদেশি লুটেরাদের স্বার্থে গৃহীত সকল নীতি ও চুক্তির বিরুদ্ধে, এই দেশের মানুষের সর্বোচ্চ স্বার্থ নিশ্চিত করে, মাটি ও প্রকৃতি রক্ষা করে, সকল নীতি ও প্রতিষ্ঠান দাঁড় করানোর সংগ্রামে জনগণের শক্তি বিকাশে আমরা সতত সক্রিয় থাকবো।

আমরা সম্মিলিতভাবে আরও শপথ গ্রহণ করছি যে, এই লক্ষ নিশ্চিত করবার জন্য, তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি উত্থাপিত ৭ দফা দাবী আদায়ের জন্য সকল পদক্ষেপ ও আন্দোলনে আমরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করবো। লাখো শহীদের আত্মত্যাগ ও কোটি মানুষের অপ্রতিরোধ্য লড়াই-এ অর্জিত এই বাংলাদেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে জনগণের নতুন ভবিষ্যৎ নির্মাণে, জনগণের সম্পদের উপর জনগণের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার কাজে, আমাদের সকল প্রচেষ্টা সংগঠিত করবো।

মুক্তিযুদ্ধের এই নতুন পর্বে বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত।

তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি
গণশপথ
২৬ মার্চ। স্বাধীনতা দিবস ২০১৪