Wednesday, March 12th, 2014

লিফলেট-রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও পিএসসি ২০১২ বাতিল কর

রামপালে সুন্দরবনধ্বংসী বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল কর। ভূমিদস্যুদের তৎপরতা বন্ধ কর
পিএসসি ২০১২ বাতিল কর। জাতীয় সংস্থার কর্তৃত্বে, প্রয়োজনে কন্ট্রাক্টর নিয়োগ করে, সমুদ্রবক্ষের গ্যাস উত্তোলন কর। শতভাগ সম্পদ নিজেরা আহরন কর ও দেশের কাজে লাগাও।
রক্তে ভেজা ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন চাই।
জাতীয় সক্ষমতা বিকাশে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।

 

  • দায়মুক্তি আইন করে জ্বালানী ও বিদ্যুৎ খাতে সরকার দেশি-বিদেশি লুটেরাদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করছে দেশকে। এতে বিপদাপন্ন বাংলাদেশের অর্থনীতি তথা বাংলাদেশের মানুষ।
  • সুন্দরবন তার অসাধারণ জীববৈচিত্র দিয়ে সারাদেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে, লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকার সংস্থান করে, আবার প্রতিটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে লক্ষ লক্ষ মানুষকে বাঁচায়। এই জীবন রক্ষাকারীকে ধ্বংস করে, তদুপরি বিরাট এলাকা জুড়ে মাটি ভরাট করার মাধ্যমে অধিকতর পরিবেশ নষ্ট করে সরকার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করতে চায়, ভুমিদস্যু মন্ত্রী এমপি ব্যবসায়ীদের দখল সাম্রাজ্য বানাতে চায়। আমরা তা হতে দিতে পারি না।
  • সুন্দরবনের বিকল্প নাই, কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদনের অনেক বিকল্প আছে। প্রথমত, সকল বিধি মেনে, জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করে, স্বচ্ছতার সঙ্গে এবং জনসম্মতি নিশ্চিত করে বাংলাদেশের অন্যত্র এরকম বিদ্যুৎ কেন্দ্র হতে পারে। দ্বিতীয়ত, এই কেন্দ্র থেকে যে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে তার চাইতে বেশি বিদ্যুৎ, বিশ ভাগের এক ভাগ অর্থে, বিদ্যমান বিদ্যুৎকেন্দ্র মেরামত ও নবায়ন করেই পাওয়া সম্ভব। তৃতীয়ত, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার বৃহৎ উদ্যোগ ধ্বংসযজ্ঞ না করে বিদ্যুৎপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে পারে।
  • গত ১৭ ফেব্র“য়ারি বঙ্গোসাগরে গ্যাসব্লক নিয়ে আরেকটি সর্বনাশা চুক্তি করলো সরকার। সংশোধিত ‘পিএসসি ২০১২’ অনুযায়ী সরকার ভারতের ওএনজিসি-র হাতে বঙ্গোপসাগরের এসএস ৪ ও এসএস ৯ নামে চিহ্নিত ১৪ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকার ২টি গ্যাসব্লক তুলে দিয়েছে।
  • বিদেশি কোম্পানির মুনাফা বাড়ানোর জন্য, তাদের এদেশীয় কমিশনভোগীরা সংশোধিত পিএসসিতে বাড়তি সুবিধা যোগ করেছে। এগুলো হল (১) বাংলাদেশ যে দামে গ্যাস কিনবে তার দাম আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বাড়ানো হয়েছে। (২) প্রতিবছরই গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। (৩) ব্যয় পরিশোধ পর্বে, গভীর সমুদ্রের জন্য, বিদেশি কোম্পানির অংশীদারিত্ব শতকরা ৫৫ ভাগ থেকে বৃদ্ধি করে শতকরা ৭০ ভাগ করা হয়েছে। (৪) ইচ্ছামত দামে তৃতীয় পক্ষের কাছে গ্যাস বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
  • স্থলভাগের পর এখন বিদেশি কোম্পানি একে একে দখল নিচ্ছে মহামূল্যবান বঙ্গোপসাগরের সম্পদ। এসব চুক্তির কারণে বাংলাদেশের বিপুল সম্পদ হাতছাড়া হবে। অর্থনীতি ভয়াবহ আর্থিক বোঝার সম্মুখিন হবে। জাতীয় নিরাপত্তা বিপন্ন হবে।
  • সব সরকারই এসব কাজ করতে গিয়ে ‘পুঁজির অভাব’ এর যুক্তি তোলে। সর্বশেষ চুক্তি অনুযায়ী ওএনজিসি ৮ বছরে বিনিয়োগ করবে প্রায় ১৪ কোটি ডলার বা ১১০০ কোটি টাকা মানে বছরে গড়ে ১৩৮ কোটি টাকা। কনোকো-ফিলিপসেরও এরকমই ছিলো। তার মানে প্রতিবছর মন্ত্রী আমলাদের গাড়ি কেনার বা বিলাসিতার খরচ একটু কমালেই সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানের টাকার যোগান হয়। এই শতকোটি টাকার অভাবের কথা বলে এর লক্ষগুণ বেশি মূল্যের সম্পদ তুলে দেয়া হচ্ছে বিদেশিদের হাতে, অন্যদিকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুন্ঠনকারী যারা তাদের সরকার পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে।
  • ২০০৯ থেকে ৫ বার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। মুনাফাখোরদের স্বার্থে গ্যাস ও বিদ্যুৎ নিয়ে নানা চুক্তির কারণে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ বাড়লে তো বিদ্যুতের বেশিদাম দিতেই হবে।’ আমাদের প্রশ্ন সরকারের দুর্নীতি ও ভুল নীতির কারণে যদি বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ বাড়ে আর তারজন্য বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বোঝা জনগণ কেন বহন করবে?
  • সবার জন্য কমদামে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব করতে প্রয়োজন: (১) সমুদ্র ও স্থলভাগের গ্যাস সম্পদ শতভাগ জাতীয় মালিকানায় রেখে উত্তোলন ও অনুসন্ধান। (২) জাতীয় সক্ষমতা বিকাশে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ। (৩) কুইক রেন্টালের মতো দুর্নীতিযুক্ত অদক্ষ অকার্যকর পথে না গিয়ে রাষ্ট্রীয় খাতের বিদ্যুৎ প্লান্ট যথাসময়ে ইগজঊ করা সহ সঠিকভাবে পরিচালনা। (৪) নবায়নযোগ্য জ্বালানীভিত্তিক বিদ্যুতের জন্য যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণসহ জাতীয় কমিটির ৭ দফা বাস্তবায়ন।

দেশি-বিদেশি লুটেরাদের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে এই সহজ পথগুলো সরকার গ্রহণ না করে সুন্দরবন ধ্বংস ও বঙ্গোপসাগরসহ দেশ বিপন্ন করে নানা নীতি গ্রহণ ও চুক্তি বাস্তবায়ন করছে। কিন্তু বাংলাদেশ এই দেশের মানুষের, দেশি-বিদেশি লুটেরাদের নয়। দেশের সম্পদ শতভাগ দেশের মানুষের কাজে লাগাতে হবে। বাংলাদেশ লুন্ঠন ও মুনাফার বলি হবে না। তাই লুন্ঠন ও সম্পদবিনাশী নীতি পরিবর্তন, জনস্বার্থে উন্নয়ন নীতি গ্রহণ এবং জাতীয় সম্পদে জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধে আমরা দেশের সকল পর্যায়ের মানুষকে অংশ নেবার আহবান জানাই।

মার্চ মাসে ঢাকায় পদযাত্রা
১৪ মার্চ : ‘রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সংশোধিত পিএসসি ২০১২, এবং বিদ্যুতের দামবৃদ্ধি : আমাদের করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা সকাল সাড়ে ১০টা, মুক্তি ভবন।
২৪ মার্চ : গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে জাতীয় কমিটির ৭ দফা দাবিতে দেশব্যাপী সমাবেশ ও বিক্ষোভ।
২৬ মার্চ : জাতীয় স্মৃতিসৌধসহ দেশের সকল শহীদ মিনারে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি এবং জাতীয় সম্পদে জাতীয় মালিকানা প্রতিষ্ঠায় গণশপথ

২৭ থেকে ৩০ মার্চ দেশব্যাপী সফর কর্মসূচি।