Friday, September 21st, 2012

৩০ সেপ্টেম্বর রবিবার জ্বালানি মন্ত্রণালয় ঘেরাও

জনগণের জীবন দুর্বিসহ করে অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে শিল্পায়ন বাধাগ্রস্ত করে কিছু গোষ্ঠির স্বার্থে সরকার বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করেছে ৫ দফা। আবারো বিদ্যুতের দামবৃদ্ধির পাঁয়তারা চলছে। এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন নামে ব্যয়বহুল এক তামাশার দোকান খুলে জনগণের ঘাড়ে বারবার এই বোঝা চাপানো হচ্ছে। অবিলম্বে সর্বশেষ দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রত্যাহার করতে হবে এবং জনগণের স্বার্থ কেন্দ্রে রেখে বিদ্যুতের দাম নীতি ঠিক করতে হবে।
রেন্টাল ও কুইক-রেন্টাল বিদ্যুৎ প্লান্ট নির্ভরতা সৃষ্টি এবং বিদ্যুতকে ব্যক্তি মুনাফার পণ্যে পরিণত করায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় গত কয়েক বছরে তিন গুণ বেড়ে গেছে। এতে কিছু গোষ্ঠী লাভবান হলেও জনগণের পাশাপাশি প্রকৃত শিল্পোদ্যোক্তারাও সংকটে পড়েছেন। অথচ স্বল্প মেয়াদে রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎপ্লান্ট মেরামত ও নবায়ন করলে বর্তমানের চেয়ে আরো বেশি বিদ্যুৎ যোগান দেওয়া সম্ভব ছিল। তাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়তো না। বার বার বিদ্যুতের দাম বাড়াতে হত না। কতিপয় গোষ্ঠীকে মুনাফা হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে দিতে সরকার এই সর্বনাশা নীতি নিয়েছে। দেশি-বিদেশি লুটেরাগোষ্ঠীর মুনাফার ভার কোনোভাবেই জনগণ নেবে না।

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত তাই অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। একইকারণে আগের কায়েক দফা বিদ্যুতের মুল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পাল্টাতে হবে। কম দামে সারা দেশে অবিরাম বিদ্যুৎ সরবরাহ খুবই সম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন:
* বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রাথমিক জ্বালানি তেল-গ্যাস-কয়লার শতভাগ জাতীয় মালিকানায় রাখা।
* গ্যাস কয়লা যাতে বিদেশে পাচার না হয় তার জন্য ‘খনিজ সম্পদ রফতানি নিষিদ্ধ আইণ’ পাশ করা। কনোকো-ফিলিপস এর সাথে রফতানিমুখী চুক্তি বাতিল করা।
* স্বল্পমেয়াদে রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ প্লান্ট মেরামত নবায়ন, মধ্য মেয়াদে গ্যাসভিত্তিক বৃহৎ বিদ্যুৎপ্লান্ট নির্মাণ, করা। দীর্ঘ মেয়াদে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন ও প্রতিষ্ঠান তৈরী করা।
* কম দামে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য পিএসসি প্রক্রিয়া বাতিল করে জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
* কয়লা সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের জন্য এশিয়া এনার্জি বহিষ্কার ও উন্মুক্ত খনন পদ্ধতি নিষিদ্ধসহ রক্তে লেখা ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন অপরিহার্য।

বহুজাতিক কোম্পানির হাতে সাগরের গ্যাস সম্পদ তুলে দেবার জন্য পিএসসি ২০১২ কিংবা কয়লা খনি বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেবার জন্য কোম্পানির দালালদের নিয়ে প্রণীত কয়লানীতি, ভারতীয় কোম্পানির ও তার দেশীয় সহযোগীদের স্বার্থে রামপালে সুন্দরবন ধ্বংসযজ্ঞ প্রক্রিয়া আমরা কোনভাবেই মানতে পারি না।

অবিলম্বে সর্বশেষ দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রত্যাহার ও কম দামে সারা দেশে অবিরাম বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করবার জন্য উপরোক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করা হবে। ১৯ সেপ্টেম্বর পুরানা পল্টন মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সারা দেশে এই সময়কালে বিদ্যুৎ অফিস ও ঢাকায় এনার্জি রেগুলেটরী কমিশনের অফিস ঘেরাও কর্মসূচী থাকবে। ২৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি প্রত্যাহার না করলে বিদেশী কোম্পানি, দেশি কমিশনভোগী ও দুর্নীতিবাজদের কবল থেকে জ্বালানী মন্ত্রণালয় মুক্ত করে দেশের সম্পদ দেশের কাজে ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং গ্যাস ও বিদ্যুৎ সঙ্কট সমাধানে ৭ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে ৩০ সেপ্টেম্বর রবিবার জ্বালানি মন্ত্রণালয় ঘেরাও।