Tuesday, January 16th, 2018

ভবিষ্যৎ চাহিদা মেটাতে পারবে না চট্টগ্রাম বন্দর

 
বর্তমানে দেশে পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে কনটেইনার পরিবহনের ৯৮ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হলেও আগামী ২০১৯ সালে এই বন্দর কনটেইনার পরিবহনে দেশের চাহিদা মেটাতে পারবে না। সে জন্য পণ্য পরিবহনের অতিরিক্ত চাহিদা মেটাতে গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপনের কোনো বিকল্প নেই।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন মতামত উঠে এসেছে। নির্ধারিত সময়ের এক বছর আগেই ২০ লাখ কনটেইনার পরিবহনের সাফল্য অর্জন করায় সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজন করা হয়। রাজধানীর একটি হোটেলে গতকাল রোববার আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। এতে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল নিজাম উদ্দিন আহমেদ।
অনুষ্ঠানে নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘চলমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ফলে দেশে আমদানি-রপ্তানি দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে যে হারে আমদানি-রপ্তানি বাড়ছে, তাতে আগামী ২০১৯ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডেলিংয়ের সর্বোচ্চ সক্ষমতা ২৬ লাখে উন্নীত হবে। কিন্তু ওই সময়ে চাহিদা দাঁড়াবে ৩০ লাখ কনটেইনার পরিবহনের। অতিরিক্ত এই চাহিদা পূরণে গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপনের কোনো বিকল্প সামনে নেই।’

.
নিজাম উদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ‘বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করতে হলে বিনিয়োগবান্ধব অবকাঠামো উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য আমাদের ব্যাপকভাবে বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন করতে হবে। আর বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বছরে কয়লা আমদানির চাহিদা দাঁড়াবে প্রায় চার কোটি টন। একই সঙ্গে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য আমদানি করা তরলীকৃত গ্যাস নিয়ে প্রচুর জাহাজ আসা-যাওয়া করবে।’ এ জন্য পটুয়াখালীর পায়রা বা কক্সবাজারের সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন তিনি।
নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর চার বছরেই চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার পরিবহন সক্ষমতা ১০ লাখ থেকে বেড়ে ১৫ লাখে উন্নীত হয়েছে। এখন সেই সক্ষমতা ২০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে, যা ২০১৬ সালে অর্জন করার কথা ছিল। সরকারের সার্বিক সহযোগিতার কারণে এক বছর আগেই এ সফলতা অর্জিত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়েছে, গত সাত বছরে এ বন্দরে কনটেইনার পরিবহনের ক্ষমতা দ্বিগুণ হয়েছে। গত কয়েক বছরে এই বন্দরে একসঙ্গে কনটেইনার ধারণক্ষমতা ৩০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৪০ হাজার করা হয়েছে। আঞ্চলিক বন্দর হিসেবে ভারত, ভুটান ও নেপালের সঙ্গে পণ্য-বাণিজ্যের জন্য বর্তমানে এ বন্দর সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
চট্টগ্রাম বন্দরে এখন একটি কনটেইনারের পণ্য খালাস করতে গড়ে সময়ে লাগে ১০ দশমিক ২৫ দিন। ২০০৬ সালে এ ক্ষেত্রে সময় লাগত ২৬ দশমিক ৫৬ দিন। একইভাবে কনটেইনার ভেসেল বা কনটেইনারবাহী জাহাজ খালাসে এখন গড়ে সময় লাগে তিন দিন। কনটেইনার পরিবহনে ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল—এই চার বছরে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৬ শতাংশ।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল লতিফ, নৌপরিবহনসচিব অশোক মাধব রায় প্রমুখ।