Tuesday, October 1st, 2019

দেশি বাপেক্সের চেয়ে বিদেশি গাজপ্রমে বেশি আগ্রহ

ভোলার শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র থেকে ১০ বছর ধরে গ্যাস উত্তোলন করে আসছে রাষ্ট্রীয় কোম্পানি বাপেক্স। ভোলাতেই গত বছর আরেকটি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করেছে রাষ্ট্রীয় এই কোম্পানি। এরপরও দেশের দক্ষিণের দ্বীপজেলা ভোলায় গ্যাসের সম্ভাব্য মজুত মূল্যায়নের নামে বাপেক্সের সঙ্গে রাশিয়ার তেল–গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান গাজপ্রমকে (আন্তর্জাতিক) যুক্ত করতে চাচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে বাপেক্সের সঙ্গে গাজপ্রমের যৌথ সমীক্ষার সমঝোতা স্মারকও (এমওইউ) চূড়ান্ত করা হয়েছে।

অন্য কারও সহায়তা ছাড়াই বাপেক্স ভোলা থেকে সফলভাবে গ্যাস উত্তোলন করার পরও সরকার কেন এই এমওইউ করতে যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তেল-গ্যাস খাতের সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, এর মাধ্যমে একদিকে রাষ্ট্রীয় কোম্পানি বাপেক্সের কর্তৃত্ব খর্ব করা হবে, অন্যদিকে গাজপ্রমকে গ্যাস উত্তোলনের কাজে যুক্ত করলে সরকার আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া গাজপ্রমকে ২০১২ সালে দেশের যে ১০টি গ্যাসকূপ খননের দায়িত্ব (ঠিকাদারি) দেওয়া হয়েছিল, সে অভিজ্ঞতা মোটেও ভালো ছিল না।

রাষ্ট্রীয় তেল-গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) ২০১৬ সালের এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী গাজপ্রমের প্রথম দফায় খনন করা গ্যাসকূপগুলোর পাঁচটিই (তিতাস-২০, তিতাস-২১, সেমুতাং-৬, বেগমগঞ্জ-৩ ও শাহবাজপুর-৪) বালু ও পানি উঠে বন্ধ হয়ে যায়। সেগুলো পরে বাপেক্সকেই মেরামত করে গ্যাস উত্তোলনের উপযোগী করার দায়িত্ব নিতে হয়।

তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য রাশিয়া বা রুশ ফেডারেশনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার নাম গাজপ্রম পিজেএসসি। আন্তর্জাতিক গাজপ্রম সেটারই নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান। আর বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) একই কাজের জন্য সরকারের পেট্রোবাংলার নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান। গাজপ্রমের সঙ্গে এমওইউ করার বিষয়টি নিয়ে বাপেক্সের আগামী বোর্ড সভায় (চলতি মাসে, তারিখ ঠিক হয়নি) আলোচনা হতে পারে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক বদরূল ইমাম প্রথম আলোকে বলেন, যৌথ মূল্যায়ন মূলত একটি অজুহাত। ভোলায় গ্যাসের ভালো মজুত আছে বুঝতে পেরে গাজপ্রম কয়েক বছর ধরেই গ্যাস উত্তোলনে বাপেক্সের সঙ্গে যৌথ সহযোগিতা চুক্তির প্রস্তাব দিচ্ছে। যৌথ মূল্যায়নের পথ ধরে রাশিয়ার প্রতিষ্ঠানটি আসলে সেখান থেকে গ্যাস উত্তোলনের পথে যেতে চায়। যৌথ উত্তোলন চুক্তি করতে পারলে সংস্থাটি ঠিকাদারির চেয়েও বেশি লাভ করতে পারবে।

ভোলার সম্ভাবনাময় গ্যাসক্ষেত্রগুলো আবিষ্কার করেছে বাপেক্স। তারপরও রাশিয়ার গাজপ্রমের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে মূল্যায়নের তোড়জোড় চলছে।

তেল-গ্যাস তথা হাইড্রোকার্বন অনুসন্ধানের প্রথম ধাপ দ্বিমাত্রিক ও ত্রিমাত্রিক জরিপ। ওই জরিপের ভিত্তিতে কূপ খননের স্থান চিহ্নিত করা হয়। এরপর সেখানে প্রথমে অনুসন্ধান কূপ খনন করে তেল বা গ্যাসের মজুত নিশ্চিত করতে হয়। তারপর আসে উত্তোলন কূপ করে বাণিজ্যিকভাবে আহরণ।

বাপেক্স ১৯৯৫ সালে দ্বিমাত্রিক জরিপ করে ভোলার শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্রটি আবিষ্কার করেছিল। ২০০৯ সালে এই গ্যাসক্ষেত্র থেকে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উত্তোলন করছে বাপেক্স। নতুন করে তেল–গ্যাস অনুসন্ধানে ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ভোলা, নোয়াখালী, শরীয়তপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী ও বরগুনায় ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপও করেছে তারা। ওই জরিপের তথ্যের ভিত্তিতে ২০১৬ সালে বাপেক্স ভোলা গ্যাসক্ষেত্রে কূপ খননের দুটি স্থান ঠিক করে। ২০১৮ সালে দুটি কূপেই গ্যাস পাওয়া যায়। একটি কূপ পড়েছে ভোলা-উত্তর। এটি দেশের ২৭তম গ্যাসক্ষেত্র। বাপেক্সের একাধিক প্রকৌশলী বলেছেন, দক্ষিণের জেলাগুলো গ্যাসের জন্য সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র।

পেট্রোবাংলার উচ্চপর্যায়ের সূত্র বলছে, ভোলার দুটি ক্ষেত্রে মোট দুই ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস থাকতে পারে। দুটি গ্যাসক্ষেত্র থেকেই বাপেক্সের সঙ্গে যৌথভাবে গ্যাস তুলতে চায় গাজপ্রম। এ জন্য তারা শাহবাজপুর ও ভোলা উত্তর গ্যাসক্ষেত্রে কী পরিমাণ গ্যাস মজুত রয়েছে, তা বাপেক্সকে নিয়েই মূল্যায়ন করার প্রস্তাব দিয়েছে। গ্যাসের সম্ভাব্য মজুতের ভিত্তিতে ভোলায় ১২টি নতুন কূপ খনন করতে চায় তারা।

বাপেক্স ভোলা থেকে গ্যাস উত্তোলন করার পরও কেন গাজপ্রমের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করার প্রয়োজন দেখা দিল, এই প্রশ্নে বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মীর মো. আবদুল হান্নান প্রথম আলোকে বলেন, রাশিয়া-বাংলাদেশ সমঝোতার ধারাবাহিকতায় সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় এই এমওইউর বিষয়টি এসেছে।

গাজপ্রম যেভাবে
২০১০ সালের ২৩ নভেম্বর জ্বালানিনিরাপত্তা নিয়ে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ ও রাশিয়ার সরকারপ্রধানেরা সম্মত হন। এরপর ২০১২ সালে গাজপ্রম ১০টি কূপ খননের ঠিকাদার নিযুক্ত হয়। তারা বিনা দরপত্রে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ) আইনের অধীনে এসব কূপ খননের কাজ পায়।

গাজপ্রমকে কূপপ্রতি চুক্তি মূল্য বাবদ গড়ে ১৫৫ কোটি টাকা দিতে হয়েছে। যদিও বাপেক্সের তথ্য অনুযায়ী তারা নিজেরা এসব কূপ (প্রতিটি) খুঁড়লে গড়ে খরচ পড়ত সর্বোচ্চ ৮০ কোটি টাকা। এ ছাড়া বাপেক্সের কাছ থেকে প্রতি হাজার ঘনফুট গ্যাস সরকার নেয় ৮৫ টাকায়। বিদেশি কোম্পানির কাছ থেকে সমপরিমাণের গ্যাসের জন্য সরকারের খরচ পড়ে প্রায় ২৫০ টাকা।

ওই ১০ কূপ খননে খারাপ অভিজ্ঞতার পরও গাজপ্রমকে আরও সাতটি কূপ খননের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর প্রতিটিতে খরচ পড়ে ১৩২ থেকে ১৫৪ কোটি টাকা।

গাজপ্রমের সঙ্গে যৌথ সহযোগিতায় তেল–গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন কোথায় কোথায় হতে পারে, তা খতিয়ে দেখতে সরকার ২০১৬ সালে একটি কমিটি করে। ওই বছরের ১ নভেম্বর কমিটির দেওয়া প্রতিবেদনে পার্বত্য চট্টগ্রামে গ্যাস অনুসন্ধান, ফুরিয়ে আসা গ্যাসক্ষেত্রে উৎপাদন বাড়ানো এবং সাগরে তেল–গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য সুপারিশ করা হয়। এই কমিটি গাজপ্রমের দেওয়া আরও ১৩টি কূপ খননের প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। এসব প্রস্তাব ২০১৬ সালের আগে বাপেক্সকে দিয়েছিল গাজপ্রম।

জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশ ও রাশিয়া একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে সম্মত হওয়ার সাত বছর পর ২০১৭ সালের ১ জুন দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। তারপর যৌথ কাজের পরিকল্পনার একটি খসড়া সময়সূচি ঠিক করা হয়। তালিকায় ভোলা গ্যাসক্ষেত্র মূল্যায়নে সমঝোতা স্মারকের কথা ছিল। আরও ছিল ভোলা, ছাতক ও পার্বত্য চট্টগ্রামে কূপ খনন এবং সাগরে ভূকম্পন জরিপের কথা।

গত বছরের শেষ ভাগে রাশিয়া ও বাংলাদেশ বাণিজ্য, অর্থনীতি, বিজ্ঞান ও কারিগরি বিষয়ে একটি প্রটোকল স্বাক্ষর করে। সেটাতে ওপরের প্রস্তাব ও পরিকল্পনাগুলো সমর্থন পায়। এই প্রটোকলে গাজপ্রমের ভূমিকাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা ছিল। অবশ্য প্রটোকলটি পালনের আইনগত কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

গাজপ্রম বরাবরই বাংলাদেশ সরকারকে যৌথ সহযোগিতায় কূপ খননের প্রস্তাব দিয়ে আসছে। সর্বশেষটি ছিল গত ১৮ এপ্রিল ভোলায় ১২টি কূপ খনন ও গ্যাস সঞ্চালনের পাইপলাইন বসানোর জন্য। এসব বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি বিভাগের সচিব, গাজপ্রমের এবং পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে বহুবার চিঠি–চালাচালি হয়েছে।

প্রস্তাবিত মূল্যায়ন সমীক্ষা
ভোলার দুটি গ্যাসক্ষেত্র আয়তনে প্রায় হাজার বর্গকিলোমিটার। বাপেক্স ও গাজপ্রমের সমীক্ষাটি সেখানে তেল-গ্যাসের মজুত নির্ধারণ করবে। গ্যাস উত্তোলনের জন্য কূপ খননের স্থান চিহ্নিত করবে। সেই সঙ্গে অনুসন্ধান এবং গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়নের কৌশল ঠিক করবে। অর্থাৎ গ্যাসের প্রাপ্যতা বুঝে উৎপাদন-কূপ খননের পরিকল্পনা করবে। সমীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদনটিতে আরও থাকবে পুরো প্রক্রিয়ার ঝুঁকি বিশ্লেষণ।

সমীক্ষা এলাকায় অনুসন্ধানের সুযোগ সম্পর্কে উভয় পক্ষ যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নেবে। গাজপ্রম ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা করবে। এ ছাড়া বাপেক্সের হাতে থাকা ভূকম্পন জরিপের তথ্যসহ অন্য প্রাসঙ্গিক উপাত্তগুলো বিশ্লেষণ করবে। সমীক্ষার জন্য যৌক্তিকভাবে প্রয়োজনীয় সব তথ্য বাপেক্স জোগাবে। প্রয়োজনে গাজপ্রম তৃতীয় পক্ষকে কিছু কাজের ঠিকাদারি দিতে পারবে। সমীক্ষাসংক্রান্ত খরচ ও ঝুঁকি গাজপ্রমের হবে। তথ্যের মালিকানা থাকবে বাপেক্সের। গাজপ্রমকে গোপনীয়তার শর্ত মানতে হবে।

এই সমীক্ষার বিষয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ জ্বালানি সহকারীর দায়িত্ব পালন করা ড. ম. তামিম প্রথম আলোকে বলেন, ভোলার গ্যাসক্ষেত্র নিয়ে নতুন করে মূল্যায়নের কিছু নেই। গাজপ্রম আসলে ভোলার গ্যাস উত্তোলনের ভাগ চায়।

বর্তমানে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম. তামিম মনে করেন, নিজের আবিষ্কৃত ক্ষেত্রগুলো থেকে গ্যাস উত্তোলনের সক্ষমতা বাপেক্সের রয়েছে। এরপরও একা না পারলে প্রয়োজনে বাপেক্স ঠিকাদার দিয়ে কূপ খনন করাবে অথবা প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে বাপেক্স সবচেয়ে উপযোগী কোম্পানির সঙ্গে উৎপাদন অংশীদারত্ব (পিএসসি) চুক্তিতে যাবে। বিনা দরপত্রে যৌথ সহযোগিতায় যাওয়া কোনোভাবেই দেশের স্বার্থ রক্ষা করবে না।

গাজপ্রমের এজেন্ট
বাংলাদেশে গাজপ্রমের স্থানীয় প্রতিনিধি (লোকাল এজেন্ট) হচ্ছে আরএমএম পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি লিমিটেড। যৌথ মূলধনি কোম্পানি ও ফার্মগুলোর নিবন্ধকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এই কোম্পানির বর্তমান মালিক দুজন—অনিরুদ্ধ কুমার রায় ও শাশ্বতী রায়।

সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত অনিরুদ্ধ ২০১৭ সালের ২৭ আগস্ট গুলশান থেকে নিখোঁজ হয়েছিলেন। এর ৮১ দিন পর ফিরে এসে তিনি গণমাধ্যমকে চিঠি লিখে বলেন, ব্যবসায়িক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। অপহরণের জন্য তিনি তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার মহিউদ্দীন আহমেদকে দায়ী করেন।

এই প্রতিবেদক গত ৬ আগস্ট থেকে অনিরুদ্ধ রায়ের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে চলেছেন, অসংখ্যবার খুদে বার্তা পাঠিয়েছেন। কিন্তু তিনি কোনো জবাব দেননি।

শুরুতে আরএমএম পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি লিমিটেডের ৫০ শতাংশের মালিকানা ছিল ঢাকা-১১ আসনের সাংসদ এ কে এম রহমতুল্লাহর দুই পুত্র মো. হেদায়েত উল্লাহ ও সেফায়েত উল্লাহর। বাকি ৫০ শতাংশের সমান মালিক ছিলেন মহিউদ্দীন আহমেদ ও অনিরুদ্ধ কুমার রায়। ২০১৬ সাল নাগাদ প্রথম তিনজন মালিকানা ছেড়ে দেন।

অবশ্য সাংসদ এ কে এম রহমতুল্লাহ মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর দুই ছেলে এখন আর গাজপ্রমের লোকাল এজেন্ট নন। অন্য মালিকদের সঙ্গে ব্যবসা নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় তাঁর ছেলেরা আরএমএম পাওয়ারের মালিকানা ছেড়ে দিয়েছেন।

দেশের স্বার্থ
গাজপ্রমের সঙ্গে সমঝোতা করার দরকার পড়ল কেন, জানতে চাইলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা যা করবেন, দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই করবেন। তবে গাজপ্রমের সঙ্গে যৌথ মূল্যায়ন সমীক্ষার বিষয়ে যেমন, ঠিক তেমনি যৌথ সহযোগিতায় গ্যাস আহরণের বিষয়েও জোরালো দ্বিমত আছে।

ভোলা গ্যাসক্ষেত্রের যৌথ মূল্যায়ন সমীক্ষার প্রস্তাবিত এমওইউ অনুযায়ী, সমীক্ষাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হলে গাজপ্রম গ্যাস আহরণের জন্য আরও যৌথ উদ্যোগের প্রস্তাব দিতে পারবে। সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে এবং বোঝাপড়ায় হলে উভয় পক্ষ যৌথভাবে গ্যাস উত্তোলনের চুক্তি করতে পারবে।

এ বিষয়ে বাপেক্সের সাবেক এমডি মোর্তজা আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ভোলার গ্যাসক্ষেত্র দুটি বাপেক্সই আবিষ্কার করেছে। এখন দরকার ভোলাতেই বাপেক্সকে আরও বেশি কূপ খননের অনুমতি দেওয়া, যাতে তারা কম খরচে গ্যাস তুলতে পারে। এটি না করে গ্যাসক্ষেত্র দুটি মূল্যায়নের নামে গাজপ্রমকে সেখানে যুক্ত করার কোনো প্রয়োজনই নেই।