Saturday, April 7th, 2018

দূষণকারীরা হঠাৎ পরিবেশবান্ধব

 

পরিবেশদূষণকারী ও দুর্ঘটনাপ্রবণ শিল্পকারখানা রাতারাতি পরিবেশবান্ধব শিল্প হয়ে গেছে। আর এ কাজ করেছে খোদ পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলপিজি) কারখানা ও পেট্রোকেমিক্যাল টার্মিনাল নির্মাণকে বিশেষ সুবিধা দিতেই এই পরিবর্তন। এ জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ আইনই সংশোধন করা হয়েছে। আর এসব কারখানার উদ্যোক্তারা বড় ব্যবসায়ী, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী। কারখানার অনেকগুলোই সুন্দরবনের আশপাশে গড়ে উঠছে।

অথচ এত দিন এ ধরনের শিল্পকে লাল তালিকাভুক্ত বা মারাত্মক দূষণকারী হিসেবে চিহ্নিত হতো। পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষাসহ (ইআইএ) আট ধরনের শর্ত পূরণ করলে তবেই এ ধরনের কারখানা নির্মাণের অনুমতি পাওয়া যেত।

 

পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের তফসিল সংশোধনের ফলে ওই কারখানাগুলোই এখন থেকে সবুজ তালিকায় বা পরিবেশবান্ধব হিসেবে চিহ্নিত হবে। সবুজ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এলপিজিপি ও পেট্রোকেমিক্যালের মতো মারাত্মক দাহ্য পদার্থের কারখানার জন্য কোনো ধরনের পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা (ইআইএ) করতে হবে না। দূষণ নিয়ন্ত্রণে কী ব্যবস্থা থাকছে, তারও কোনো তথ্য দিতে হবে না। দুর্ঘটনা হলে কী করা হবে এবং কারখানা থেকে বর্জ্য কোথায় ও কীভাবে ফেলা হবে, তার হিসাবও দিতে হবে না। কারখানা নির্মাণের প্রাথমিক তথ্য, অবস্থানগত ছাড়পত্র ও স্থানীয় অনুমোদন জমা দিয়েই এ ধরনের কারখানা নির্মাণ করা যাবে।

তরলীকৃত গ্যাস ও পেট্রোকেমিক্যাল দাহ্য পদার্থ বলে এ ধরনের কারখানা থাকে মানববসতি থেকে অনেক দূরে। কেননা, কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তা অনেক বড় এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। অথচ বাংলাদেশে এলপিজি কারখানাগুলোর বেশির ভাগই মানববসতি এলাকায়। আর অনেকগুলো আছে সুন্দরবনের আশপাশে।

কয়েক বছর ধরে এলপিজি কারখানা ও পেট্রোকেমিক্যাল টার্মিনাল নির্মাণে আগ্রহী হয়ে উঠছে দেশের বড় বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দুই বছর ধরে দেশের তিনটি প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে সুন্দরবনের ইসিএ এলাকায় এলপিজি কারখানা স্থাপনের অনুমোদন চাওয়া হচ্ছিল। এসব শিল্পগোষ্ঠী নামে ও বেনামে ওই এলাকায় বিপুল পরিমাণে জমি কিনেছে। এসব ব্যবসায়ীর বড় অংশেরই উচ্চ রাজনৈতিক যোগাযোগ রয়েছে। মূলত এসব প্রভাবশালী ব্যবসায়ীকে সুবিধা দিতেই আইনের এই পরিবর্তন। বাংলাদেশ এলপিজি মালিক সমিতির বর্তমান সভাপতি বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান। তিনি আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত এ ব্যাপারে প্রথম আলোকে বলেন, জ্বালানি হিসেবে এলপিজি অন্যান্য উৎস থেকে পরিবেশবান্ধব হতে পারে। কিন্তু তার পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বোতলজাতকরণের পুরো প্রক্রিয়াটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে যৌক্তিকভাবেই তা এত দিন লাল তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল। আর এ ধরনের কারখানার জন্য ইআইএ করার বিধানটি রাখার কারণ হচ্ছে, এর মাধ্যমে শুধু পরিবেশগত প্রভাব যাচাই করা হয় না। এ ধরনের কারখানার ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করে তা মোকাবিলার বিষয়টিও যুক্ত থাকে। ফলে রং বদল করে রাতারাতি সবুজ তালিকায় নিয়ে যাওয়া কোনো বিবেচনাতেই ঠিক হয়নি।

যেভাবে পরিবর্তন
গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা একটি গেজেটে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন (১৯৯৭) সংশোধন করা হয়। তৎকালীন পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসতিয়াক আহমেদ স্বাক্ষরিত ওই গেজেটে আইনের তফসিল পরিবর্তন করে শিল্পগুলোকে কেন লাল থেকে সবুজ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তার কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। সংশোধিত তালিকা অনুযায়ী তরলীকৃত গ্যাস (এলপিজি) বোতলজাতকরণ কারখানা, সিলিন্ডার কারখানা, পেট্রোকেমিক্যাল টার্মিনাল নির্মাণসহ ছয় ধরনের শিল্পকে সবুজ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার কথা উল্লেখ করা হয়।

ইসতিয়াক আহমেদ এ ব্যাপারে প্রথম আলোকে বলেন, ‘তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস খুবই পরিবেশবান্ধব। এটি মাটি ও পানির কোনো ক্ষতি করে না। এ কারণে প্রতিবেশী দেশগুলোতে এ ধরনের শিল্পকে সবুজ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা আছে। এত দিন ব্যাখ্যাগত বিভ্রান্তির কারণে এগুলোকে লাল তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক চর্চা ও বাস্তব প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে পরিবেশ অধিদপ্তরের দেওয়া প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়ে আইনের তফসিল সংশোধন করে এগুলোকে সবুজ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছি।’

এ ব্যাপারে সাবেক পরিবেশ ও বনমন্ত্রী এবং বর্তমানে পানিসম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে প্রথম আলোর কথা হয়। তিনি বলেন, ‘পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে এই খাতকে লাল তালিকায় রাখাটা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। আমরা সেটা সংশোধন করেছি মাত্র।’

পরিবেশ নিয়ে নতুন শঙ্কা
সরকার আইন সংশোধনের পক্ষে বললেও পরিবেশবাদীরা বলছেন অন্য কথা। তাঁদের মতে, পৃথিবীর বেশির ভাগ দেশে এলপিজি ও পেট্রোকেমিক্যাল কারখানার পরিবেশগত ঝুঁকি বাড়ছে। উন্নত দেশগুলোতে এ ধরনের কারখানা স্থাপনের সর্বোচ্চ পরিবেশগত নিরাপত্তা ও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা রাখা হয়। গত ৫০ বছরে গ্যাস ও রাসায়নিক কারখানায় ১০টি বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। এগুলোর মধ্যে ফ্রান্সে দুটি, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস, ইতালি, মেক্সিকো, রোমানিয়া ও ভারতে এসব দুর্ঘটনায় বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি ভারতে এলপিজিকে ভ্রাম্যমাণ বোমা হিসেবে চিহ্নিত করে এই কারখানাগুলোকে সর্বোচ্চ পরিবেশগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন সেখানকার পরিবেশবাদীরা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বদরুল ইমাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘তরলীকৃত গ্যাস ও পেট্রোকেমিক্যাল মারাত্মক ধরনের দাহ্য পদার্থ। এ কারণে বিশ্বের বেশির ভাগ দেশে এ ধরনের কারখানা মানববসতি থেকে অনেক দূরে রাখা হয়। দুর্ঘটনা হলে তার প্রভাবে পরিবেশের যাতে কম ক্ষতি হয়, এমন এলাকায় স্থাপন করে থাকে। আর আমাদের দেশে এলপিজি কারখানাগুলোর বেশির ভাগ গড়ে উঠেছে মানববসতি এলাকায়।’

বদরুল ইমাম আরও বলেন, পেট্রোকেমিক্যালের দুর্ঘটনা অনেক বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। আইন সংশোধন করে এ ধরনের কারখানাকে সবুজ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি আত্মঘাতী এবং বড় ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি সৃষ্টি করবে। যথাযথ পরিবেশ সমীক্ষা ও দূষণ-বিপর্যয় রোধে পরিকল্পনা ছাড়া এ ধরনের কারখানা স্থাপনের অনুমোদন দেওয়ার ওই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তিনি।

নতুন নতুন ঝুঁকিতে সুন্দরবন
এদিকে গত বৃহস্পতিবার পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় থেকে সুন্দরবনের চারপাশের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে ১৯০টি শিল্পকারখানার তালিকা জমা দিয়েছে। তাতেও সুন্দরবন ইসিএ এলাকায় সাতটি এলপিজি ও একটি গ্যাস সিলিন্ডার প্রস্তুত কারখানার কথা উল্লেখ করেছে। আর জাতীয় পরিবেশ কমিটির সর্বশেষ সভায় আরও ১৬টি শিল্পকারখানাকে অনুমোদন দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে আটটি এলপিজি বোতলজাত করার কারখানা রয়েছে।

প্রস্তাবিত ওই কারখানাগুলোর বেশির ভাগই সুন্দরবনের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় অবস্থিত। ইতিমধ্যে ইনডেক্স এলপিজি নামের একটি প্রতিষ্ঠান রামপাল উপজেলার দ্বিগরাজ ইউনিয়নে একটি এলপিজি কারখানা স্থাপন করেছে। সুন্দরবনের ২ কিলোমিটারের মধ্যে জয়মনি গ্রামে শিল্প গ্রুপটির বেশ কয়েকটি শিল্প প্লট রয়েছে। ইনডেক্স গ্রুপ তাদের ওয়েবসাইটে পটুয়াখালীর কলাপাড়া এলাকায়ও একটি এলপিজি কারখানা স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে। সুন্দরবনের পাশে এ ছাড়া টিএমএস নামের একটি এনজিও, জজ ভূঞা গ্রুপের জেবি এলপি, ডেকান এলপিজিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জমি কিনে সেখানে কারখানা স্থাপনের ঘোষণা দিয়ে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে রেখেছে।

পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল্লাহ আল মহসীন চৌধুরীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘উচ্চ আদালত থেকে আমাদের সুন্দরবন ইসিএ এলাকায় যেসব কারখানা রয়েছে, তার তালিকা চেয়েছে। আমরা তা দিয়েছি। আদালত যা নির্দেশ দেবে, আমরা পালন করব।’ আর সুন্দরবন ও দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল নিয়ে সমীক্ষার কাজটি প্রক্রিয়াধীন বলে তিনি জানান।

এদিকে গত বছরের ১০ জুলাই শেষ হওয়া জাতিসংঘের বিজ্ঞান, শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ৪১ তম সভায়, সুন্দরবনসহ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ওপরে একটি কৌশলগত পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা (এসইএ) করার কথা বলা হয়েছিল। আর ওই সমীক্ষা শেষ করার আগে ওই এলাকায় কোনো ধরনের ভারী শিল্পকারখানা ও অবকাঠামো নির্মাণ করা যাবে না। তা-ও মানা হচ্ছে না।

মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল এ বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, ‘এত দিন আমরা ভাবছিলাম রামপালসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানার দূষণে সুন্দরবন আস্তে আস্তে ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। এত দিন সর্বোচ্চ দূষণকারীর তালিকায় থাকা এলপিজি ও পেট্রোকেমিক্যাল কারখানাকে সবুজ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ফলে সুন্দরবনের দ্রুত ধ্বংস ত্বরান্বিত হলো। কেননা, এসব কারখানার বেশির ভাগই সুন্দরবন ঘিরে গড়ে উঠছে। সরকারের ঘনিষ্ঠ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিকে খুশি করতে ও লাভবান নেওয়া এই আইনের সংশোধন সুন্দরবন ও সামগ্রিকভাবে দেশের প্রতিবেশকে মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেবে।


অভিমত
ভয়ংকর অপরাধ 
আনু মুহাম্মদ, 
অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সুন্দরবন ও দেশের পরিবেশ রক্ষায় নানা অঙ্গীকার করেছে। ফারাক্কা বাঁধের কারণে সত্তর দশক থেকে সুন্দরবনে মিষ্টি পানির প্রবাহ কমে যাওয়া এবং লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ার সমস্যা আগে থেকেই ছিল। ফলে সরকারের উচিত ছিল ভারতের সঙ্গে আলোচনা করে কীভাবে সুন্দরবনসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে মিষ্টি পানির প্রবাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া যায়। কিন্তু আমরা অবাক হয়ে দেখলাম, ২০০৯ সালে বর্তমান সরকার প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় এসেই ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে সুন্দরবনের পাশে রামপাল
কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প করার উদ্যোগ নেয়। সুন্দরবনের চারপাশের জমি ও জলাভূমি রক্ষা না করে উল্টো তা সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠীদের মধ্যে ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নিতে দেখি।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, যে ধরনের কর্মকাণ্ড সুন্দরবন ও দেশের পরিবেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবে, সরকার নিজেই তার নেতৃত্ব দিচ্ছে। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ছাড়াও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সুন্দরবনের আধা কিলোমিটারের মধ্যে বড় খাদ্যগুদাম নির্মিত হয়েছে। ওই এলাকায় শিল্পকারখানা হওয়ার সুবিধা করে দিতে সড়ক, বিমান ও নৌচলাচলের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। আর দেশের যেসব বন ও জলাভূমিগ্রাসী গোষ্ঠী দেশে সক্রিয় আছে, তাদের থামানোর বদলে সরকার তাদের সহযোগীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। তাদের প্রয়োজনকে বিবেচনায় নিয়ে আইন সংশোধন করছে।
দেশের পরিবেশ সংরক্ষণ আইন এমনিতেই দুর্বল। তার ওপর এই আইন সংশোধন করে সরকার এলপিজি ও পেট্রোকেমিক্যালের মতো কারখানাকে লাল তালিকা থেকে বাদ দিয়ে সবুজ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার মধ্য দিয়ে সুন্দরবন ও পরিবেশবিধ্বংসী হিসেবে নিজেদের ভূমিকাকে আরও স্পষ্ট করল। এই সংশোধন পরিবেশ ও বনগ্রাসী শক্তিকে আরেক দফা প্রণোদনা ও উৎসাহ দিল।
সরকার ইউনেসকোর কাছে গিয়ে অঙ্গীকার করে এসেছে, সুন্দরবন ও তার আশপাশের এলাকার ওপর একটি কৌশলগত পরিবেশগত সমীক্ষা করার আগে কোনো শিল্পকারখানার অনুমতি দেবে না। কিন্তু দেশে এসে একের পর এক এলপিজি ও অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে ওই এলাকায় কারখানা করার অনুমতি দিচ্ছে। এটা পরিষ্কারভাবে সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্য রাখার শর্ত ভঙ্গ। একই সঙ্গে সরকার জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) যে ১৩টি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করে এসেছে, সুন্দরবনের পাশে শিল্পকারখানা ও এলপিজি এবং পেট্রোকেমিক্যাল টার্মিনালকে সবুজ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার মধ্য দিয়ে সরকার কমপক্ষে আটটি অঙ্গীকার ভঙ্গ করল। একই সঙ্গে সরকার প্যারিস চুক্তিতে কার্বন নিঃসরণ কমানো ও পরিবেশ রক্ষার যে অঙ্গীকার করেছে, এটি তারও বরখেলাপ।

এসব তৎপরতা সরকারকে সুন্দরবনবিনাশী ও অপরাধী হিসেবে দেশের ভেতরে-বাইরে পরিচয় করাবে; যা একটি ভয়ংকর অপরাধ হিসেবে ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে।